মতলব উত্তর (চাঁদপুর): ক্লাসরুমে ধুমপান করা নিয়ে নিজেদের ভিতরে দ্বন্ধ লেগেছে কিশোরী গ্যাংয়ের মধ্যে। এই তথ্য শিক্ষককে জানিয়ে দেওয়া সন্দেহে একই ক্লাসের একজনকে হত্যার উদ্দেশ্যে দোতলা থেকে নিচে ফেলে দেয় কিশোরী গ্যাং। বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনার পর এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার নন্দলালপুর ছামাদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে। শশী আক্তার নামের নবম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীকে দোতলার বারান্দা থেকে ধাক্কা মেরে নিচে ফেলে দেয় একই ক্লাসের তাহিরা ও সুজানা সহ আরো ৫-৬ জন। ঘটনার পরে শশীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার ঢাকা নেওয়া হয়। সেখানে শশী এখনো (রাত ৮টা) অজ্ঞান অবস্থায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।
জানা গেছে, তাহিরা ও সুজানা সহ ৫/৬ জন মিলে ক্লাসে ধুমপান করতো। বিষয়টি তাদের শ্রেণী শিক্ষক জেনে গেছেন। ধুমপানের কথা শশী আক্তার শিক্ষককে বলে দিয়েছে সন্দেহে শশীর সাথে বৃহস্পতিবার সকালে তাদের জগড়া হয়। এ নিয়ে এক পর্যায়ে শশীকে তারা ধাক্কা মেরে দোতলার বারান্দা থেকে নিচে ফেলে দেয়।
শশীর পিতা মোঃ শরীফুল্লাহ বলেন, আমার মেয়ে ৯ম শ্রেণীতে পড়ে। সে ওই ক্লাসের ক্যাপ্টেন। শশী কোন খারাপ আড্ডায় নেই। তাহিরা ও সুজানা সহ ৫-৬ জন ক্লাসে এবং স্কুল ক্যাম্পাসে প্রায়ই ধুমপান করতো। এই বিষয়টি শিক্ষকরা জেনে যাওয়ায় শশীর সাথে তর্কের এক পর্যায়ে তাকে ধাক্কা মেরে নিচে ফেলে দেয়। শশীর জ্ঞান ফিরলে বাকিদের নাম জানতে পারবো। আমি এ ঘটনায় খুবই মর্মাহত।
এদিকে প্রধান শিক্ষক মোঃ সারওয়ার বলেন, আমি সকালেই স্কুলের কাজে কুমিল্লা চলে আসছি। তবে ঘটনাটি আমি জেনেছি। সভাপতির সাথে কথা বলে দ্রুত সমাধান করা হবে। সহকারী প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শশীর শারীরিক অসুস্থ ছিল, তাই ওখান থেকে পড়ে গেছে। আপনি সকালে প্রাইভেট পড়ানোর সময় এমন একটি ঘটনা কিভাবে ঘটল? এ প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি তিনি।
নন্দলালপুর ছামাদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আহসান হাবিব কানু মুঠোফোনে বলেন, আমি ঘটনাটি শুনেছি। এটা একটা দুঃখজনক ঘটনা। আগামী রোববার জরুরি মিটিং ডেকেছি এবং তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। রোববারে তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে সুষ্ঠু সমাধান করা হবে।
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আঃ কাইয়ুম খানের মুঠোফোনে একাধিক বার কল করলে তিনি রিসিভ করেন নি।
ফম/এমএমএ/আরাফাত/


