চাঁদপুর: চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনের বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় চাঁদপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা দেন।
চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এম এ লতিফের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সলিম উল্লাহ সেলিম।
চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনের বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি নির্বাচিত হলে চাঁদপুরের কিছু উন্নয়নের পরিকল্পনা করেছি। এর মধ্যে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন হয়নি। ফোর লেনের করার চেষ্টা করা হবে। এছাড়া আনন্দ বাজার থেকে ঝুলন্ত ব্রীজ ও রিভার ড্রাইভ করা হবে। এতে আনন্দবাজার এলাকার নদী ভাঙ্গন ও শহরের যানজট কমবে।
তিনি বলেন, মেডিকেল কলেজ ৫০০ বেডের হবে। সেই লক্ষেই কাজ করা হচ্ছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একোয়ার হয়েছে। কন্সট্রাকশনের কাজ শিঘ্রই শুরু হবে। যানজট নিরসনে বিকল্প কয়েকটা রাস্তার প্রয়োজন রয়েছে। ফরিদগঞ্জ বাইবাস সড়কটি শাহতলী দিয়ে উঠবে। যা জেলখানার সামনে দিয়ে বের হবে।
জেলা বিএনপির সভাপতি বলেন, শহরকে সুন্দর করতে হলে প্রশাসক বা মেয়রের প্রয়োজন। আগামী নির্বাচনের পর সরকার আসলে এমনেই উন্নয়ন হবে। শহরে একটি শিশু পার্কের যেমন প্রয়োজন। তেমনই একজন মেয়রের প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়া পৌরসভার অনেক কিছুর প্রয়োজন রয়েছে। খেলাধুলার জন্য মাঠ বাড়াতে হবে। তা না হলে মাদক বেড়ে যাবে। মাদকের বিষয়ে চাঁদপুরে জিরো ট্রলারেন্স। হয় আপনারা আমরা থাকবো না হয় মাদক।
শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, নদী থেকে আর অবাধে বালু উত্তোলন করা যাবে না। আর বালু খেকু সৃষ্টি হতে দেয়া হবে না। মাষ্টার প্লানের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করতে হবে। টেন্ডার হতে হবে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়। টেন্ডারে উল্লেখ থাকবে ১ লক্ষ ঘনফুট, আর বালু উত্তোলন করা হবে ১০ লক্ষ ঘনফুট, তা হতে দেয়া হবে না। যদি গত ৫৪ বছর সাংবাদিকের উন্নয়নে কাজ হয়ে থাকে, তাহলে আগামীতেও হবে।
তিনি বলেন, সকলে মিলে চাঁদপুরের উন্নয়নে কাজ করা হবে। বেকার যুবকদের জন্য দুটি ইপিজেড করা হবে। আমাদের চরাঞ্চলগুলোতে অনেক জায়গা রয়েছে। ইপিজেড হলে ৫ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান হবে। শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করা হবে। বিএনপি চায় উন্নয়ন। আগামী দিনে নির্বাচিত হলে সকলকে নিয়ে কাজ করবো। আপনারা আমাদেরকে ৫টি বছর সময় দেন। তারেক রহমান উন্নয়নের মাধ্যমে সকল কিছু পরিবর্তন করে দেবে। ভোট মানুষের কাছে। আমি প্রার্থী হিসেবে ভোট প্রত্যাশি। আমি আপনাদের মাধ্যমে জনগণের কাছে ভোট প্রত্যাশা করছি।
সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, সাধারণ সম্পাদক এম এ লতিফ, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কাজী শাহাদাত, শাহাদাত হোসেন শান্ত, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল ইমরান শোভন, গনমাধ্যম কর্মী আলম পলাশ, তালহা জোবায়ের, কে এম মাসুদ, শাওন পাটওয়ারী, কে এম সালাউদ্দিন।
নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করেন, আপনারা জানেন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত আমি একজন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী। নির্বাচন অত্যাসন্ন, এই নির্বাচনে আমি মনে করি ক্ষমতার আগে জনতা, ভোগের আগে ত্যাগ, এমপির পিছনে জনতা নয়, জনতার পিছনে এমপি। সবাই মিলে করবো কাজ, সবার আগে বাংলাদেশ। প্রিয় বন্ধুরা, মহান আল্লাহ আমাকে নির্বাচিত করলে এই আসনের জনতার পিছনে থেকে জনস্বার্থে কিছু কাজ করতে আমার আগ্রহ দীর্ঘ দিনের। নতুন প্রজন্মের কর্মসংস্থানের জন্য চাঁদপুরে ও হাইমচরে ২টি ইপিজেড তৈরী করা হবে। ব্যাপক কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দিয়ে রপ্তানিমুখী শিল্প কারখানা তৈরীর মাধ্যমে নতুন শিল্পোদ্যাক্তাদের বেশি বেশি শিল্প কারখানা গড়ে তোলার জন্য আহ্বান জানানো হবে।
মসজিদ, মাদ্রাসা ও সনাতন ধর্মালম্বী সহ বিভিন্ন উপাসনালয় ব্যাপক মানোন্নয়ন করে সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে। সংখ্যালঘু নয়, সংখ্যাগুরু নয়, সবাই আমরা বাংলাদেশী এটাই হোক প্রোগান।
চাঁদপুর-হাইমচর যাতায়াতের প্রধান সড়ক ৪ লেনে প্রশস্তকরণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। চাঁদপুর-হাইমচরের সকল সরকারি খাল উদ্ধার করে সংস্কারের মাধ্যমে পানির প্রবাহ চলমান রাখা হবে, যাতে কৃষক খালের পানি ব্যবহার করে উৎপাদন দ্বিগুণ করতে পারে।
নদী ভাঙন থেকে চাঁদপুরকে সুরক্ষা দেয়া, প্রকৃতি বান্ধব আধুনিকায়ন এবং বিষ্ণুপুর থেকে জালিয়ারচর পর্যন্ত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে রিভারড্রাইভ তৈরি করা হবে। তারেক রহমানের ঘোষণা কৃষক পাবে শস্য বীমা, সহ সকল পেশার মানুষের জন্য সুনিদিষ্ট সরকারি কার্ড ইস্যু করে জীবন মানোন্নয়নে কাজ করা হবে। চাঁদপুর-হাইমচর এলাকার প্রতিটি মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। চাঁদপুর-হাইমচরের রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট সহ প্রতিটি রাস্তা পাকাকরনের আওতায় আনা হবে এবং যানজট নিরসনে চাঁদপুর থেকে বের হওয়ার জন্য পূর্বমুখী কয়েকটি নতুন রাস্তা নির্মাণ সহ প্রাচীন ইচলীঘাটে একটি পাকা ব্রীজ নির্মাণ করা হবে।
মেঘনার পশ্চিম পাড়, রাজরাজেশ্বর, ইব্রাহিমপুর, নীলকমল ইউনিয়নকে মেঘনার করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করার জন্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নদী শাসন করা সহ স্থায়ী বন্দোবস্তা করা হবে। চাঁদপুর-৩ আসনে নতুন স্টেডিয়াম স্থাপন সহ প্রতিটি স্কুলে নিয়মিত খেলাধুলা ও আন্তঃপ্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করণ এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।গতানুগতিক শিক্ষার পরিবর্তে গণমুখী কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি করা হবে।
চাঁদপুর সদর হাসপাতাল, হাইমচর হাসপাতালে পর্যাপ্ত ডাক্তার ও জনবল নিয়োগ সহ প্রতিটি ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে নিয়মিত ডিউটি ডাক্তারের মাধ্যমে জরুরী সেবা নিশ্চিত করা হবে।
ফম/এমএমএ/


