দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে নির্যাতন, উদ্ধার করল পুলিশ

"তারা আমাকে ঠিকমতো খাবার এবং ঔষধ দেয়নি, টয়লেটের পানি পান করেছি,,

চাঁদপুর : চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যান ঘাটায় আঃ ছাত্তার মিজি (৬০)  নামের ব্যক্তি দ্বিথীয় বিয়ে করার অপরাধে প্রথম স্ত্রী কর্তক দুই বছর ধরে তাকে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন । স্বামীকে এমন নির্যাতনের খবর পেয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে  অবশেষে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই ভুক্তভোগী বৃদ্ধকে উদ্ধার করেছে।
সোমবার (৬ জুন ) বিকেলে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যানঘাটা এশিয়া হোটেল সংলগ্ন ১৪৩৬ নং হোল্ডিংয়ের রাশেদা প্লাজার তৃতীয় তলার বাসভবন থেকে তাকে চাঁদপুর মডেল থানার এস আই শাহাজাহান সংর্গীয়ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগী ছাত্তার মিজিকে উদ্ধার করেন।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যান ঘাটা এলকার মৃত আঃ ওহাব মিজির পুত্র আঃ ছাত্তার মিজির সাথে গত ২৫/১০/২০১২ইং তারিখে বকুল তলা রোডের মোঃ মকবুল হোসেনের মেয়ে ফাতেমা মেহেদীর সাথে ইসলামী শরীয়া মোতাবেক পাঁচ লক্ষ টাকা দেনমোহরে বিবাহ হয়।
বিবাহের পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তাদের সংসার জীবন ভালোই চলছিল। এদিকে আঃ ছাত্তার মিজির প্রথম স্ত্রী রাশেদা বেগম (৫৫) তাদের দ্বিতীয় বিবাহের কথা জানতে পেরে বিভিন্ন কৌশলে স্বামীকে বাসাতে আটকে রাখেন। ভুক্তভোগী আঃ ছাত্তার মিজি প্যারালাইসিসের রোগী হওয়াতে তার শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে আছে। এই দুর্বলতার সুযোগে প্রথম স্ত্রী রাশেদা বেগম তার নিজ বাসাতে তিনটি লোহার গেটে তালা লাগিয়ে তিন তলার বাসার রুমেতেও সিটকানী এবং তালা লাগিয়ে দেন। যাতে করে ছাত্তার মিজি তার ২য় স্ত্রীর কাছে যেতে না পারে এবং বাহিরে বেরুতে না পারে। এমনকি রাশেদা বেগম ও তার পরিবারের লোকজন অসহায় ছাত্তার মিজিকে ঠিক মতো প্রতিবেলা  খাবার, নাম্তা এবং কোন ঔষধপত্র  দেয়নি। এছাড়া তাকে মারধর করে শারিরীক ও মানসিক ভাবে অনেক নির্যাতন করেছেন।
তারই প্রেক্ষিতে গত ৫ জুন ২য় স্ত্রী ফাতেমা মেহেদী তার অসুস্থ বৃদ্ধ স্বামীকে উদ্ধার করতে চাঁদপুর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। আর সেই অভিযোগ পেয়ে সোমবার বিকেলে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী আঃ ছাত্তার মিজি জানান, আমি দ্বিতীয় বিয়ে করার কথা জানতে পেরে আমার প্রথম স্ত্রী রাশিদা বেগম, জোরপূর্বক আমার কাছ থেকে আমার বাড়ি ঘর তার নামে লিখে নেয়। তারপর গত দু’বছর যাবৎ সে তিনটি লোহার গেট বানিয়ে আমাকে বাসায় তালাবদ্ধ করে রেখেছেন। এছাড়া আমি যে রুমে থাকতাম সেই রুমে তালা এবং সিটকানী দিয়ে রাখতেন। আমি যাতে কোনোভাবেই আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর কাছে এবং বাহিরে বেরুতে না পারি। তারা আমাকে প্রায় সময় মারধোর করতো, ঠিকমতো খাবার এবং ওষুধ দিতোনা। তাদের নির্যাতনের শিকার হয়ে আমি প্রায় সময়ে বাধ্য হয়ে টয়লেটের পানি পান করে জীবন বাঁচিয়েছি। পুলিশ যাওয়ার পর আমি যেনো নতুন জীবন খুঁজে পেয়েছি। আমি পুলিশকে বলেছি যদি আমাকে সেখান থেকে না নিয়ে আসা হয় তাহলে আমি আত্মহত্যা করবো।
চাঁদপুর মডেল থানার এসআই শাহজাহান জানান, ওই বৃদ্ধ লোকটিকে তার প্রথম স্ত্রী দুই বছর ধরে ঘরে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ পেয়ে সোমবার বিকেলে আমরা তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করেছি। তারা তাকে ঠিকমতো খাবার ও ঔষধপত্র দেয়নি। তাই তিনি বাধ্য হয়ে টয়লেটের কলের পানি পান করেছেন বলে জানিয়েছেন।
এছাড়া তিনি যেনো বাহিরে বেরুতে না পারে সেজন্য তার প্রথম স্ত্রী বাসায়  তালা লাগিয়ে বদ্ধ ঘরে রেখ শারীরিক ও মানসিকভাবে অনেক নির্যাতন করেছে বলেও স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। বাকিটা তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
ফম/এমএমএ/

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম