দুর্যোগ না হলে আলুর বাম্পার ফলন হবে চাঁদপুরে

চাঁদপুর: চাঁদপুর জেলার ‘মেঘনা ধনাগোদা’ ও ‘চাঁদপুর সেচ প্রকল্প’র আভ্যন্তরসহ নদী উপকূলীয় এলাকায় আলুর আবাদ বেশী হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বছর আলুর বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি বিভাগ চলতি অর্থবছরে জেলায় ১লাখ ৬৩ হাজার মেট্টিক টন আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। জানুয়ারী মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত জেলায় আলুর আবাদ হয়েছে ৮ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে। তবে সর্বশেষ চিত্রাংয়ের কারণে জমিতে পানি জমে থাকায় আলুসহ অন্যান্য সব্জি আবাদ কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে জানান কৃষকরা।

সরেজমিন চাঁদপুর সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মনোহরখাদী গ্রামে গিয়ে দেখাগেছে, আলুর জমিতে আগাছা উঠাচ্ছেন কৃষকরা। নীচু জমির আলুর চারাগুলো এখনো ছোট। আবার কিছু ভিটা ও উচুঁ জমিতে আগ থেকে লাগানোর কারণে গাছ বড় হয়েছে।

এছাড়া সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল, বালিয়া, চান্দ্রা, বাগাদী, মৈশাদী, কল্যানপুর, আশিকাটি, শাহমাহমুদুপুর, রামপুর ইউনিয়নে এবছর অধিকাংশ কৃষক আলুর আবাদ করেছেন। এসব এলাকার প্রত্যেক মাঠেই আলুর জমিগুলোর পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষকরা। বিশেষ করে শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর, কুমারডুগী ও ঘোষেরহাট এলাকার বড় বড় মাঠে আলুর ব্যাপক আবাদ হয়েছে।

ওই গ্রামের কৃষক মো. সালাম ও আলমাস রহমান বলেন, আলু গাছের চারা ছোট হলেও সমস্যা নেই। অল্প সময়ের মধ্যে বড় হয়ে যাবে। তবে প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হলে আশা করছি এবছর আলুর বাম্পার ফলন হবে।

একই এলাকার কৃষক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমি এ বছর ৫০ শতাংশ জমিতে আলুর আবাদ করেছি। এখন পর্যন্ত গাছগুরো ভাল আছে। বাকী আল্লাহর ইচ্ছা। ২০২১ এর ডিসেম্বর এবং ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের দুই দফা বৃষ্টিতে অনেক ক্ষতি হয়েছে। আলুর জমিতে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় উঠানোর পর সংরক্ষণ করতে পারিনি। যার কারণে দামও খুব কম পেয়েছি।

চাঁদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, এ বছর চাঁদপুর সদরে আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা উৎপাদন ৩৩ হাজার মেট্টিক টন,  মতলব উত্তরে ১৫ হাজার ৬শ মেট্টিক টন,  মতলব দক্ষিণে ৫৫ হাজার ৩শ মেট্টিক টন, হাজীগঞ্জে ১১ হাজার ২শ’ মেট্টিক টন, শাহরাস্তিতে ১ হাজার ৫শ মেট্টিক টন, কচুয়ায় ৪২ হাজার ২শ’ মেট্টিক টন, ফরিদগঞ্জে ২ হাজার ২শ’ মেট্টিক টন এবং হাইমচর উপজেলায় ২ হাজার মেট্টিক টন ।

জেলার ১২ হিমাগারে ৭০ হাজার মেট্টিক টন আলু সংরক্ষণ করার ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। বাকি আলু হিমাগারের বাহিরে থাকে। এর মধ্যে কিছু পরিমাণ আলু উৎপাদন মৌসুম জমিতে বিক্রি হয়ে আসছে। বাকি আলু কৃষকরা কৃষি বিভাগের পরামর্শে কৃত্রিমভঅবে মাচায় সংরক্ষণ করেন।

ফম/এমএমএ/

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম