দুই শতাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধার মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

সরকার নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানাতে নানা প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন: এম.এ. ওয়াদুদ

চাঁদপুর : চাঁদপুরে মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক স্মৃতিচারণ ও দুই শতাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধার মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (৯ জানুয়ারি) রাতে চাঁদপুর আউটার স্টেডিয়ামে মেলার বঙ্গবন্ধু মঞ্চে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিটের জেলা কমান্ডার বীর যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা লে. (অব.) এম এ ওয়াদুদ।

তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শহীদদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে বলেন, বিজয় মেলা আমাদের প্রানের মেলা। ১৯৭১ সালে দীর্ঘ ৯মাস যুদ্ধ করে আমরা স্বাধীনতা লাভ করেছিলাম। কিন্তু আমরা বঙ্গবন্ধুর মুক্তি ছাড়া এবং আমাদের মাঝে ফিরে না আসা পর্যন্ত আমরা অস্ত্র জমা দেইনি। ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে আমরা বঙ্গবন্ধুর কাছে অস্ত্র জমা দিয়েছিলাম। বর্তমান সরকার নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানাতে নানা প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

তিনি আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধ কোন শখে বা আনন্দের জন্যে করিনি। ’৫২ ভাষা আন্দোলনে ছাত্ররা ভাষার জন্যে যুদ্ধ করেছিলেন। ভাষা আন্দোলন করতে গিয়ে অনেকেই প্রান হারিয়েছিলেন। যার প্রতিক হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙ্গালি জাতির মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু বাঙালিকে ডাক দিয়ে এ জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুত করেছিলেন। গঠন করেছিরেন সংগ্রাম কমিটি।

এম.এ ওয়াদুদ বলেন, বঙ্গবন্ধু মুক্তির কথা কেন বলেছিলেন তা বুঝতে হবে। অর্থনৈতিক মুক্তির জন্যে আজকেও আমাদের যুদ্ধ করতে হবে। যখন আমাদের দেশে আর অভাব থাকবে না, বাঙালিরা সুখে শান্তিতে বসবাস করবে, তখন আমাদের স্বপ্ন পূরণ হবে। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে আমরা স্বপ্নের সোনার বাংলা আরো আগে দেখতে পারতাম। বিলম্ব হলেও বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যার নেতৃত্বে সেই স্বপ্নের সোনার বাংলার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

মুক্তিযুদ্ধের অনেক স্মৃতির মধ্য থেকে একটি স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ অনেক কষ্ট করেছিলাম। যুদ্ধ গিয়েছিলাম কোন কিছু পাওয়ার জন্যে নয়। যুদ্ধে গিয়ে মরে গেলেও দেশকে স্বাধীন করবো এ চিন্তা ছিলো। মুক্তিযুদ্ধ করতে গিয়ে অনেকের সাহায্যও পেয়েছিলাম। আমি যখন গুলি খেয়েছিলাম তখন এক বোন তার প্রিয়জনের দেয়া শাড়ি ছিড়ে আমার রক্ত বন্ধ করার জন্যে দিয়োছিল। সে বোন আমাকে সাহায্য করেছিলো তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে। কিন্তু আমরা কি পেরেছি? আমাদের এ স্বাধীনতা অক্ষুন্ন করে রাখতে হবে।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহকারি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব আলী মাষ্টারের সভাপতিত্বে ও সহকারি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মহসিন পাঠানের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহকারি কমান্ডার মৃনাল কান্তি সাহা, সহকারি কমান্ডার আব্দুল মান্নান মিয়াজি, বীর মুক্তিযোদ্ধা সোয়েব আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন সিরাজী, কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমূখ।

আলোচনা শেষে জেলার দুই শতাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা সানা উল্লাহ মিয়ার পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালনের মধ্য দিয়ে মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার সমাপনী হবে। এর আগে গত ৫ ডিসেম্বর বিজয় মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি। সমাপনী দিনে মেলায় অংশগ্রহনকারী ১২০ সংস্কৃতিক সংগঠক ও ব্যাক্তিকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হবে।

ফম/এস.পলাশ/এমএমএ/

শাহরিয়া পলাশ | ফোকাস মোহনা.কম