তোপের মুখে দৌঁড়ে পালালেন প্রকৌশলী

রামগঞ্জে রাস্তা নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাজে ফাঁকি দেখে বুধবার উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে ধাওয়া করে এলাকাবাসী।

সূত্র জানায়, ১নং কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের শেখপুরা গ্রামের নূরনবী চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে থেকে মজুমদার বাড়ি পর্যন্ত ২৫ লাখ ৪৮ হাজার টাকায় ৭ শ মিটার রাস্তা সংস্কারের জন্য টেন্ডারের মাধ্যমে কাজটি পায় মেসার্স এম এ ইঞ্জিনিয়ার। কিন্তু তারা নিজে কাজ না করে লক্ষ্মীপুরের প্রভাবশালী ঠিকাদার এমদাদ পাটোয়ারীর কাছে তা বিক্রি করে দেন। এমদাদ উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী তৌহির উদ্দিনের সাথে যোগসাজেস করে নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে সড়ক সংস্কার কাজ শুরু করেন।

রাস্তায় নিম্মমানের খোয়া ও অনিয়ম দেখে বুধবার দুপুরে এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ করে। সেখানে এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়ে অবস্থা বেগতিক দেখে উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী তৌহির উদ্দিন দৌড়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

স্থানীয় কামাল হোসেন, সাইফুল ইসলাম, মন্নু মিয়া জানান, উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী তৌহির উদ্দিনের তত্ববধানে রামগঞ্জে যতগুলো রাস্তা হয়েছে, সবগুলোতে নিম্মমানের কাজ হয়েছে। যার জন্য তিনি কয়েকবার বদলি হলেও টাকার বিনিময়ে বদলি স্থগিত করে ৮ বছর ধরে রামগঞ্জেই আছেন।

এ ব্যাপারে রামগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী তৌহির উদ্দিন বলেন, আমি পালিয়ে আসিনি। বরং নিম্মমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করায় ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তড়িঘড়ি করে রামগঞ্জে চলে এসেছি।

মেসার্স এম এ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাউকে পাওয়া না গেলেও কমিশনে ক্রয়করা এমদাদ পাটোয়ারী মোবাইলে সাংবাদিকদের বলেন, আমি কিভাবে কাজ করি বা করবো সেটা আপনাদের জানার দরকার নেই। আর কাগজপত্রে যে ঠিকাদারের নাম উল্লেখ আছে সেটাও জানার দরকার নেই। আমি সবাইকে ম্যানেজ করে কাজ করছি, সময়মত আপনাদের সাথে দেখা করবো।

এ ব্যাপারে রামগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদ হাসান জানান, নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করায় তা অপসারণ এবং কাজ বন্ধ রাখার জন্য ইতিমধ্যে ঢাকাস্থ জি-৪, দক্ষিণ বনশ্রী খিলগাঁও মেসার্স এম এ ইঞ্জিনিয়ারিং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়েছি। লক্ষ্মীপুরের ঠিকাদার এমদাদ পাটোয়ারী কিভাবে করে তা আমার জানা নেই। আর ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিকের নামও আমি জানি না।

ফম/এমএমএ/

নিউজ ডেস্ক | ফোকাস মোহনা.কম