তরুণ প্রজন্ম রক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণে সচেতনতায় বেশি গুরুত্ব দিতে হবে

চাঁদপুরে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন

চাঁদপুর : “তামাক কোম্পানির কূটকৌশল উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনমুক্ত বাংলাদেশ গড়ি” প্রতিপাদ্যে চাঁদপুর জেলায় সচেতনতা বৃদ্ধির নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে চাঁদপুরে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসের র‌্যালি ও আলোচনা সভা উদযাপিত হয়েছে।

শনিবার (৩১ মে) সকালে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এবং সম্মেলন কক্ষে আয়োজন করা হয় র‌্যালি ও সচেতনামূলক সভা। অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন।

তিনি বক্তব্যে বলেন, তামাক হল মাদকে আসক্তের প্রাথমিক স্তর। এটা থেকে হাতেখড়ি হয়। একটা মানুষকে জেল দেয়া জরিমানা করা কল্যাণকর কাজ না। যেহেতু এটা কল্যাণকর রাষ্ট্র, মানুষকে সচেতন করে আমরা এখান থেকে বের হবার চেষ্টা করবো। আমাদের তরুণ প্রজন্ম রক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা ও প্রচারণায় বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সারাবিশ্বে প্রতিবছর ৮৭ ভাগ লোক তামাক সেবনের কারনে মৃত্যু হচ্ছে। আর বাংলাদেশে প্রতিবছর ১লক্ষ ৬১ হাজার তামাক ব্যবহারকারী মৃত্যু হয়। সত্যিকারের অর্থে তামাক ব্যবহারের ফলে ধীরে ধীরে একজন মানুষের মৃত্যু হয়। তামাকের বিষয়ে সরকারের আন্তরিকতার কোন কমতি নেই। সরকার তামাক ব্যবহারকারীদের নিরুসাহী করার জন্য যা যা করার দরকার তা করছে।

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, তামাকের ব্যবহার কেবল অফিস আদালত পাবলিক প্লেসে নয়, সব জায়গাতেই আছে। সুতরাং সেখানে আমরা সচেতন করার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো।
আমাদের কিছু রোগ আছে মানুষের, কিছু রোগ আছে সমাজের। সমাজের কিছু স্বার্থের কথা আমাদের চিন্তা করতে হবে। সিগারেটের প্যাকেটে লিখা থাকে ধুমপান মৃত্যুর কারণসহ নানা ধরনের সচেতনতা লিখা। তারপরও যারা ধুমপায়ী তারা ধুমপান করছে। বর্তমানে আমাদের দেশের নারীরাও তামাক সেবন করছে। আমাদের প্রচারনাগুলো নারী ও পুরুষ উভয়কে নিয়েই করতে হবে। বাড়ি-বাড়ি সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, স্কুল-কলেজগুলোতে মাদক, ধুমপান, ইভটিজিং, কিশোরগ্যাংসহ নানা সচেতনতামূলক সচেতনতা সভা করতে হবে। আইন প্রয়োগ করে সমাজ পরিবর্তন করা যায় না। সচেতনতাই পারে একমাত্র তামাক ও মাদক থেকে দূরে রাখতে। সামাজিক ব্যাধিগুলোর উপর আমাদের সকলের নজর রাখতে হবে। তামাকের বিরুদ্ধে সিভিল সার্জন অফিস ও স্বাস্থ্য বিভাগকে আরোও বেশী কাজ করতে হবে।

এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব পিপিএম। উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. এরশাদ উদ্দিন ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুপ্রভাত চাকমা। জেলা প্রশাসন চাঁদপুর আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদ ইকবাল। আলোচনা সভার শুরুতে তামাকের ক্ষতিকারক দিকগুলো তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা পঃপঃপঃ কর্মকর্তা রাজন কুমার দাস।

এরপর উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন বাবুরহাট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন, আমরা ধূমপান নিবারণ করি (আধুনিক) চাঁদপুর জেলা শাখার মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্যাংকার মো. মুজিবুর রহমান প্রমুখ।

জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ,তামাক বিরোধী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষার্থীবৃন্দ, এনজিও প্রতিনিধি ও চাঁদপুর যুব রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে তামাক বিরোধী রচনা প্রতিযোগীতায় বিজয়ী চারজনের মধ্যে নগদ টাকা ও পুরস্কার দেয়া হয়।

ফম/এমএমএ/

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম