চাঁদপুর: চাঁদপুর সদর উপজেলার ৭ নং তরপুরচন্ডী ইউনিয়ন এলাকায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে চোরচক্র ও মাদকাসক্তদের উপদ্রব। প্রতিদিন কোনো না কোনো বাড়িতে চুরির ঘটনা এবং মাদকাসক্তদের বেপরোয়া চলাচলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে দ্রুত প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ ও পুলিশি টহল বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহে তরপুরচন্ডী ইউনিয়ন এর ৩, ৪,৫,৬,৭ নং ওয়ার্ড এর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ছিঁচকে চোর থেকে শুরু করে সংঘবদ্ধ চোরচক্র ও মাদক সেবীদের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। গভীর রাতে তো বটেই, এমনকি দিনের আলোতেও ঘরের জানালার গ্রিল কেটে বা সুযোগ বুঝে মূল্যবান জিনিসপত্র, মোবাইল ফোন নিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা।ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই চুরির ঘটনার পেছনে মূল কারিগর হিসেবে কাজ করছে এলাকার চিহ্নিত মাদকাসক্তরা। সন্ধ্যার পর নির্জন স্থানগুলোতে মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। মাদকের টাকার যোগান দিতেই তারা একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।
এলাকার এক প্রবীণ বাসিন্দা জানান, “এখন রাতে ঘুমানোর সময়ও ভয় লাগে। চোর আর মাদকাসক্তদের কারণে আমরা জিম্মি হয়ে পড়েছি। তরুণ সমাজ ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে, আর আমরা সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।
মাদক ও চুরির এই চক্রটি দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠলেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ইউনিয়ন এর বিভিন্ন ওয়ার্ডের সচেতন মহলের সাথে কথা বলে জানা যায় ৩ নং ওয়ার্ড বিটি রোডস্থ মোয়াজ্জেম কাজীর বাড়ি সংলগ্ন পরিত্যক্ত স্থানে প্রতিদিন রাতে রমরমা মাদকের বানিজ্য চলছে। মতলব, বাবুর-হাট ও শহরের চিহ্নিত চোরচক্র ও মাকদ সেবীরা নিয়মিতই রাত্রি কালীন মহড়া দিয়ে থাকেন বিটি রোড এ।অন্যদিকে ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের জি এম ফজলুল হক উচ্চ বিদ্যালয় এর পুরাতণ ও পরিত্যক্ত ভবনটি এখন মাদক সেবীদের আতুরঘড়ে পরিনত হয়েছে।প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যে রাত পর্যন্ত এই ভবনগুলোতে কিশোর গ্যাং ও মাদক সেবীদের আড্ডা চলে।এ নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে উৎকন্ঠা বিরাজ করছে।তাছাড়াও তেঁতুলতলাস্থ বঙ্গবন্ধু সড়ক,কাশিম বাজার,আনন্দ বাজার মেঘনা বাজার, মফিজ মিজি বাড়ির পিছনের বাগানে বিছিন্ন চলে মাদকের এই বানিজ্য।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত এই অরাজক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে তরপুরচন্ডীকে একটি নিরাপদ ও মাদকমুক্ত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশ সুপার ও পুলিশ প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবে।
ফম/এমএমএ/


