
ঢাকা থেকে প্রাইভেট কারে চাঁদপুর আসবেন বা চাঁদপুর থেকে ঢাকা যাবেন! সাবধান! খুবই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। আপনি বলবেন, “এ কার কী চাঁদপুর যাবে? ভিতর থেকে বলবে, “জি ভাই উঠেন।’’ হুট করে কারে উঠে পড়বেন না। আগে দেখুন ভিতরে ভদ্রবেশী হাইজ্যাক পার্টি বা মলম বা অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা আছে কি না। জানার চেষ্টা করুন, ওরা কোথায় যাবে। এ সময় যদি ভুল করে বসেন, তা হলে যে আপনার জীবনে কী ঘটতে পারে তা আপনি প্রথম প্রথম বুঝতে কষ্ট হবে। কিছুক্ষন গাড়ী চলার পর যখন ভবেরচর বা দাউদকান্দি সীমানায় আসবেন, তখন দেখবেন ওদের আসল চেহারা। ওরা তখন বলবে চা পানি খেয়ে নেন রেস্টুরেন্টে। এরপরে গাড়ীতে ঢুকেই দেখবেন ওরা মানকি-ক্যাপ ও মাস্ক পড়ে আছে। চেহারা বুঝার কোন উপায় নাই। ছেড়ে দিবে এসি। এসি-র সাথে মিশিয়ে দিবে অজ্ঞান হওয়ার কিছু, এতে নি:শ্বাস নেয়ার সাথে সাথে আপনি হয়ে যাবেন অচেতন বা অজ্ঞান। তখন ওদের অপারেশন শুরু হবে। আপনার মোবাইল নিয়ে আত্মীয় স্বজনকে ফোন করবে মুক্তিপণ দাবী করবে। আর সৌভাগ্যবশত: যদি আপনার অটো বন্ধ হয়ে যাওয়া মোবাইল খুলতে না পারে, তখন আপনাকে আহত বা হত্যা করে দূরে কোথায়ও লাথি মেরে অন্ধকার রাস্তার পাশে গাড়ী থেকে ফেলে দিয়ে ওরা চম্পট দেবে। এমনই এক ঘটনা ঘটেছে গত বুধবার সন্ধায়।
রাজধানীর জনৈক বিশ্ববিদ্যালয়ের-ছাত্র ঢাকা সায়েদাবাদ বাসষ্ট্যান্ড থেকে প্রাইভেটকারে চাঁদপুর আসার সময় এমনই এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। অচেতন থাকায় তাকে অজ্ঞান পার্টি হবিগঞ্জের লাখাই এলাকায় নিয়ে অন্ধকার সড়কের পাশে ফেলে দেয় ধাক্কা মেরে। এদিকে চাঁদপুরে তার শিক্ষক মা, আইনজীবী বাবা ও ভাই ও স্বজনরা তো ভীষন উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগে সারাটা রাত কাটিয়েছে। তার সেল ফোন সুইচড অফ করা ছিলো। হাইওয়ে পুলিশ ডিউটিরত থাকায় ও আর্জেন্টিনার খেলা থাকায় চারিদিকে লোকজন সজাগ থাকায় তারা সুবিধা করতে না পেরে কুমিল্লার বরুড়া দিয়ে কোন এক অন্ধকার রাস্তায় ঢুকে পড়ে ।
ভোর ৪টার পর র্দুবৃত্তরা তাকে হবিগঞ্জের লাখাই এলাকায় লাথি মেরে সড়কের পাশে ফেলে দিয়ে চম্পট দেয়। তখন ছেলেটির কিছুটা হুশ হয়। চারিদিকে ঘন কুয়াশা, সে কিছুক্ষন চিন্তা করার পর দেখে অজানা অন্ধকার এলাকা। কোন লোক বা যানবাহন নেই। ভীতসন্ত্রস্ত ও হতাশ। এ কী হলো! সে ধীরে ধীরে উঠে দুই মাইল হাঁটতে থাকে। এমন সময় একটি অটো রিকশায় সে একটি আধা খোলা দোকানে গিয়ে হাত মুখ ধুয়ে কিছু রুটি চা পানি খায়। দোকানদার বুঝতে পারে সে কোন দুর্ঘটনার শিকার। পরে পাশের মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করে। তখন মোবাইলে চার্জ দিয়ে মা বাবার সাথে কথা বললে মা বাবা তখন আশ্বস্থ হয় যে তাদের বুকের ধন-ছেলে বেঁচে আছে। মা বাবা তাকে বিকাশে টাকা পাঠায়। এরপরে সে শায়েস্তাগঞ্জ চলে যায়। সেখান থেকে নারায়নগঞ্জের তারাবো হয়ে কাঁচপুর আসে। সবশেষে চাঁদপুর চলে আসে মতলব হয়ে পরদিন বিকেলের দিকে। ছেলেটি এখনো নরমাল ও সুস্থ হতে পারেনি। সে জানায়, কি যে ভয়ংকর ছিলো ওই সময়টা এবং অজ্ঞান পার্টিরা! সে জানায়, সে মনে করেছে লঞ্চ ধর্মঘট চলছে। তাই সে বাড়িতে আসছিলো প্রাইভেট ভাড়া গাড়ীতে।
তাই বলছি-প্রাইভেট ভাড়া কারে ঢাকা থেকে চাঁদপুর আসবেন! সাবধান! ঢাকা যাবার সময়ও সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। অন্যথায় জীবন-মরণ সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী। কারন ওরা ভদ্রবেশী যুবক। বুঝার কোন উপায় নেই।
লিখেছেন: দেলোয়ার আহমেদ, সিনিয়র সাংবাদিক, চাঁদপুর প্রেসক্লাব, চাঁদপুর।


