ট্রেন দূর্ঘটনায় চাঁদপুর ও হাজীগঞ্জের ৩ জন নিহত, আহত-৭

ছবিতে নামাজে জানাযার জন্য খাটে ফারজানার মরদেহ। (উপরে বামে)। নীচে ডানে ইনসেটে নিহত মজিবুর রহমান ও তার স্ত্রী কুলসুমা বেগম। ছবি: ফোকাস মোহনা.কম

চাঁদপুর: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার মন্দবাগ নামক স্থানে দুটি ট্রেনে সংঘর্ষে নিহত হয়েছে ১৬ যাত্রী। এর মধ্যে চাঁদপুর সদর ও হাজীগঞ্জ উপজেলার ৩জন নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় চাঁদপুর সদরের একই পরিবারের আহত হয়েছেন ৭জন।

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) ভোর ২টা ৫৬ মিনিটে উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের মন্দভাগ রেলওয়ে স্টেশনের ক্রসিংয়ে আন্ত:নগর উদয়ন এক্সপ্রেস ও তূর্ণা নিশীথা ট্রেনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

চাঁদপুরে নিহতরা হলেন- হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজারগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিম রাজারগাঁও গ্রামের বেপারী বাড়ীর মৃত আব্দুুল জলিলের চেলে মজিবুর রহমান (৫০) ও তার স্ত্রী কুলসুমা বেগম (৪২)।

হাজীগঞ্জের গণমাধ্যম কর্মী মো. আলমগী হোসেন বলেন, নিহত মজিবুর রহমান পশ্চিম রাজারগাঁও গ্রামের বেপারী বাড়ীর মৃত আব্দুল জলিল বেপারীর ছেলে।  তিনি স্ত্রী ও ৪ পুত্র সন্তানসহ শ্রীমঙ্গল থাকতেন। তারও মা থাকেন তাদের সাথে। মজিবুর শ্রী মঙ্গলে ফেরি করে প্রসাধনি সামগ্রী বিক্রি করে জীবীকা নির্বাহ করতেন। তার আপন ভাইরাও শ্রীমঙ্গলে থাকেন। শুধুমাত্র তার স্ত্রী কুলসুমা বেগম এর পরিবার রাজারগাঁও থাকেন।

উৎসুক জনতা হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় আন্তনগর তূর্ণা নিশীথা ও আন্তনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের দেখতে এসেছিলেন রাজারগাঁও এলাকার মো. শাহাদাৎ। সেখানে এসে নিজের চাচা মজিবুর রহমান (৫০) ও চাচি কুলসুমার (৪৩) মরদেহ দেখতে পান তিনি। নিথর দেহে কসবা উপজেলার বায়েক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বারান্দায় শুয়ে আছেন তারা। পরে শাহাদাৎ আত্মীয় স্বজনের সাথে যোগাযোগ করেন।

অপর নিহত ফারজানা আক্তার (২০) সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের উত্তর বালিয়া গ্রামের বিল্লাল বেপারীর মেয়ে। ফারজানা বিবাহিত। শহরের নাজির পাড়া দেওয়ান বাড়ীর মোহন দেওয়ানের স্ত্রী।

আহতরা হলেন নিহত ফারজানার মা বেবী বেগম (৪০), ভাই হাসান বেপারী (২৮), নানী ফিরোজা বেগম (৭০), ফারজানার মামি শাহিদা বেগম (৪০), মামাত বোন মিতু (১৭), ইলমা (৭) ও মামত ভাই জুবায়ের (৩)। আহতরা ঢাকা ও বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন  বলে পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে।

নিহত ফারজানার দাফন করার জন্য প্রস্তুতি চলছে বলে স্বজনরা জানিয়েছে। চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
অপরদিকে হাজীগঞ্জে নিহত মজিবুর রহমান ও কুলসুমা বেগম এর মরদেহ বাড়িতে আনার জন্য চাঁদপুর থেকে তার স্বজনরা ব্রাহ্মন বাড়িয়া রওয়ান হয়েছেন।
ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম