ট্রেন দুর্ঘটনা: চাঁদপুরের নিহত হয়েছে ৬জন, আহত-১০

ছবি: সংগ্রহীত।

চাঁদপুর: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার মন্দবাগ নামক স্থানে দুটি ট্রেনে সংঘর্ষে নিহত হয়েছে ১৬ যাত্রী। এর মধ্যে চাঁদপুর সদরের ১জন, হাজীগঞ্জ উপজেলার ২ ও হাইমচর উপজেলার ৩ জন নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় চাঁদপুর সদরের একই পরিবারের ৭ জনসহ আহত হয়েছেন ১০জন।

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) ভোর ২টা ৫৬ মিনিটে উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের মন্দভাগ রেলওয়ে স্টেশনের ক্রসিংয়ে আন্ত:নগর উদয়ন এক্সপ্রেস ও তূর্ণা নিশীথা ট্রেনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজারগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিম রাজারগাঁও গ্রামের বেপারী বাড়ীর মৃত আব্দুুল জলিলের ছেলে মজিবুর রহমান (৫০) ও তার স্ত্রী কুলসুমা বেগম (৪২), সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের উত্তর বালিয়া গ্রামের বিল্লাল বেপারীর মেয়ে ফারজানা আক্তার (২০), হাইমচর উপজেলার তিকশিকান্দির জাহাঙ্গীর হোসেন স্ত্রী আমাতন বেগম (৩৫), মেয়ে মরিয়ম (৫), বোনের ছেলে মাঈনুদ্দিনের স্ত্রী কাকলী বেগম (৩৫)।

আহতরা হলেন- নিহত ফারজানার মা বেবী বেগম (৪০), ভাই হাসান বেপারী (২৮), নানী ফিরোজা বেগম (৭০), ফারজানার মামি শাহিদা বেগম (৪০), মামাত বোন মিতু (১৭), ইলমা (৭) ও মামত ভাই জুবায়ের (৩)।

অন্য আহতরা হলেন- হাইমচরের জাহাঙ্গীর হোসেন, বোন রাহিমা ও শিশু মাহিমা। এর মধ্যে জাহাঙ্গীর কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং বোন রাহিমা ও শিশু মাহিমা ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নিহত মজিবুর রহমান ও কুলসুমার মরদেহ রাতে হাজীগঞ্জ রাজারগাঁও আনা হবে। নিজ বাড়ীতে তাদের দাফন করা হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে। সদর উপজেলার উত্তর বালিয়া গ্রামের ফারজানার মরদেহ সকাল ১০টায় বাড়িতে আনা হয়। পরে আইনি পক্রিয়া শেষে তাকে দাফন করা হয়।

হাইমচরের আহত জাহাঙ্গীর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ছবি: সংগ্রহীত।

জানাগেছে, সিলেটে শাহ জালালের (র.) মাজার জিয়ারত করে উদয়ন ট্রেনে ফিরছিলেন হাইমচরের তিকশিকান্দির জাহাঙ্গীর হোসেন ও তার পরিবার। ছিলেন দশ নম্বর স্থানে থাকা বগিতে। কিন্তু দানব হয়ে এসে তূর্ণা নিশীথা ট্রেন কেড়ে নেয় তার সুখের সংসার। নিহত হন স্ত্রী আমাতন বেগম, পাঁচ বছরের মেয়ে মরিয়ম আর ভাগিনার স্ত্রী কাকলী বেগম। আহন হন জাহাঙ্গীর হোসেন, ভাগিনার শিশু সন্তান মাহিমা এবং বোন রাহিমা বেগম। কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আহত অবস্থায় কাঁতরাচ্ছেন জাহাঙ্গীর।

মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে তিনি চেতনা ফিরে পেলে পরিবার পরিজনের খবর জানতে চান নার্সদের কাছে। কিন্তু নার্সরা তাকে পরিবারের খবর জানাননি। রাত সাড়ে ৮টার দিকে জাহাঙ্গীরের পরিবারের নিহত তিনজনকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কিছুক্ষণের জন্য আনেন তার পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু জাহাঙ্গীরের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন বলে তাকে তাদের মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি। পরে তিন জনের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় চাঁদপুরের হাইমচরে।

জানা গেছে, চাঁদপুরের হাইমচরের তিকশিকান্দির হাসিম আলীর জাহাঙ্গীর হোসেন (৪০), তার স্ত্রী আমাতন বেগম (৩৫), মেয়ে মরিয়ম (৫), বোন রাহিমা বেগম (৪৫), বোনের ছেলে মাঈনুদ্দিনের স্ত্রী কাকলী বেগম ও তার শিশু কন্যা মাহিমাকে নিয়ে ৬ নভেম্বর সিলেট যান। সিলেটে হযরত শাহ জালাল (র) এর মাজার জিয়ারত শেষে তারা সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী আন্ত:নগর উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনে করে ফিরছিলেন। ছিলেন পেছনের দিকের বগিতে। দুর্ঘটনায় নিহত হন জাহাঙ্গীর হোসেনের স্ত্রী আমাতন বেগম (৩৫), মেয়ে মরিয়ম (৫), বোনের ছেলে মাঈনুদ্দিনের স্ত্রী কাকলী বেগম। আহত বোন রাহিমা ও শিশু মাহিমা ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম