জেলা পরিষদ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন চালুর দাবী

জেলা পরিষদ কর্মকর্তা কর্মচারীদের পেনশন প্রথা প্রবর্তনের দাবী জানানো হয়েছে।

শনিবার (৮ নভেম্বর ) সকালে  ঢাকার গাবতলীস্হ বড়বাজার বেড়ীবাঁধ জেলা পরিষদ কনভেনশন অডিটরিয়ামে সকালে সমিতির এক সাধারণ সভায় এ আহ্বান জানানো হয়।

সমিতির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দরা জানান, প্রশাসনিক কাঠামোয় স্থানীয় সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর। স্থানীয় সরকারের অন্যতম প্রতিষ্ঠান হচ্ছে জেলা পরিষদ। কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি জেলা পরিষদ জেলার স্থানীয় উন্নয়ন, অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডসহ মানুষের মৌলিক মানবিক চাহিদাগুলো পূরণে যুগ যুগ ধরে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এখনো পর্যন্ত জেলা পরিষদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সরকারি পেনশন সুবিধার আওতায় আসেননি। একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হলেও জেলা পরিষদ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারি কর্মচারীদের ন্যায় জেলা পর্যায়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

জেলা পরিষদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মাঠ পর্যায়ের প্রকল্প তদারকি, রাস্তাঘাট ও জনসেবামূলক অবকাঠামো নির্মাণ, স্থানীয় বিদ্যালয় ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র,ব্রীজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দিরসহ সার্বিক উন্নয়ন এবং দুর্যোগ মোকাবেলা, অসচ্ছল ব্যক্তিদের অনুদান প্রদান, সরকারের সকল নির্দেশনাসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছে। এছাড়াও প্রাচীনতম ডাকবাংলো , যাত্রী ছাউনী সেবা দিয়ে আসছে। অথচ সরকারি কর্মচারীদের মতো জেলা পরিষদ কর্মচারীদের অবসরের পর কোনো স্থায়ী আর্থিক সুবিধার নিশ্চয়তা নেই। দীর্ঘদিন চাকরি শেষে এককালীন সামান্য অর্থ বা অনুদান পেয়ে তাঁরা কর্মজীবনের পরবর্তী সময়ে আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হন। জেলা পরিষদ কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ এক অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হয়। স্থানীয় সরকারের এ প্রতিষ্ঠানটি সৃষ্টির পর হতে জেলা পরিষদের হাজার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী অবসর নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করে অসুস্থ হয়ে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করেছেন । এতে নেতৃবৃন্দ সরকারের প্রতি অবিলম্বে জেলা পরিষদ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন চালুর জোর দাবি জানান।

সমিতির সভাপতি কে এম রাশেদুজ্জামানের সভাপতিতে ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ চুন্নু মিয়ার সঞ্চালনায় অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,বাংলাদেশ জেলা পরিষদ কর্মকর্তা কর্মচারী সমিতির সাবেক সভাপতি এনামুল হক বশির, মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আকরাম আলী ,খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুর রহমান, শরীয়তপুর জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ নুর হোসেন , মাদারিপুর জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা লতিফা ইয়াসমিন, ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন নিঝুম, চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (চঃ ) শেখ মহিউদ্দিন রাসেল প্রমুখ।

এছাড়াও জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রাম বাস্তবায়ন, জেলা পরিষদের ডাকবাংলো কেয়ারটেকারদের অর্গানোগ্রাম ভুক্তকরন, মাস্টাররোল কর্মচারীদের চাকুরী স্থায়ীকরণসহ চার দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি নেতৃবৃন্দ উদাত্ত আহ্বান জানান।

পরে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ২১ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তা কে সম্বর্ধনা দেওয়া হয়। সভায় দেশের ৬১ জেলা পরিষদের কর্মকার কর্মচারীরা উক্ত সভায় অংশগ্রহণ করে।

ফম/এমএমএ/

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম