জাকনী সপ্রাবি’র সভাপতি না হতেই গাছ ইট লুটপাট

হাজীগঞ্জ: হাজীগঞ্জের ৬৮নং জাকনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি না হতেই বিদ্যালয়ের গাছ কেটে নেওয়া এবং পরিত্যক্ত ভবনের ইট লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। আগামীর সভাপতি এবং ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পরিচয়ে উপজেলার বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের জাকনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের অজুহাতে বিদ্যালয়ের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা মূল্যের গাছ এবং স্লিপের টাকায় নির্মিত বারান্দার ইট লুটপাট করে নিয়ে গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় যে, পূর্ব জাকনী গ্রামে ১৯৭৩ সাল এমপি প্রাপ্ত অবহেলিত জরার্জীণ বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নিমার্ণের অজুহাত দেখিয়ে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির পরিচয়ে ওই গ্রামের প্রভাবশালী জামায়াত নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. সায়েদ খান গাছ বিক্রয় করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

প্রায় ৩০ হাজার টাকা মূল্যের তিনটি তাল গাছ, এবং ৩০ হাজার টাকা মূল্যের কাঠ জাতীয় গাছ বিক্রয় করে দেয় সায়েদ খান। এ ছাড়াও এক সময়ে বিদ্যালয়ের উন্নয়নের স্লিপের টাকার নির্মাণ করা কক্ষের পরিত্যক্ত ইট বিক্রয়ের অভিযোগ উঠে। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে কোন প্রকার টেন্ডার ছাড়াই বিক্রয় করে এসব মালামাল।

সায়েদ খান বিদ্যালয়ের কোন অভিভাবক না হলেও বহাল তবিয়ে চলছে। নাতি বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করার কারণে নিজেকে অভিভাবক হিসেবে জাহির করেন। অথচ অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে ছেলে হাবিবুর রহমানের নাম রয়েছে। হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ে নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলাসহ নানা সরকার বিরোধী কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাড়ি, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. রোকন মিজি’র সমন্বয়ে সায়েদ খান বিদ্যালয়ে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করে আসছে বলে জানান এলাকাবাসি। সায়েদ খান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরূপা বেগমের সমন্বয়ে স্থানীয় মো. আমির হোসেনের কাছে গাছ বিক্রয় করেন এবং গ্রামের দুলাল গাজীর কাছে ইট বিক্রয় করে দেন। গাছ বিক্রয়ের বিষয়ে কোন ধরনের প্রমাণপত্র দেখাতে পারেননি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি মো. ইদ্রিছ বেপারি বার্ধক্য জনিত কারণে দীর্ঘদিন যাবৎ শয্যাশায়ী হওয়ার কারণে সায়েদ খান নিজেকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পরিচয় দিয়ে জরার্জীণ এ বিদ্যালয়ের উন্নয়নের স্লিপের টাকা এবং অন্যান্য বরাদ্ধ আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে।

সচেতন অভিভাবকরা মনে করেন, সায়েদ খান মেম্বার সভাপতি হওয়ার আগেই গাছ ইট লুটপাট করে সভাপতি হলে বিদ্যালয়ের অবস্থা কি হবে তা আর বুঝা বাকী নেই। এমন সব লোকেরাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসে ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে। এর সঠিক বিচার করা উচিত
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শরুপা বেগম বলেন, গাছ কাটার বিষয়ে সভাপতি আমাকে জানিয়েছে, নতুন ভবনের ঠিকাদার কাজ ধরার জন্য গাছ এবং ভবন সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলেছে। এ বিষয়ে কোন টেন্ডার কিংবা কাজপত্র হয়েছে কি না জানতে চাইলে তা আমার জানা নেই। ইটের বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

বিদ্যালয়ের সভাপতি হাজী ইদ্রিছ বলেন, আমি দীর্ঘদিন অসুস্থ্য আমাকে জানিয়েছে গাছ বিক্রয় করে দিয়েছে মাত্র ১ হাজার টাকায়। এ ছাড়া আর কিছুই বলতে পারবো না।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলম বুল বুল জানান, এ বিষয়ে সহকারি শিক্ষা অফিসারকে খোঁজ খবর নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলবো।

ফম/এমএমএ/

মহিউদ্দিন আল-আজাদ | ফোকাস মোহনা.কম