জনপ্রিয় হতে নয়, নিজের অর্পিত দায়িত্ব পালন করতেই সবসময় চেয়েছি : অঞ্জনা খান মজলিশ

চাঁদপুর জেলা বিএএসএ এর উদ্যোগে জেলা প্রশাসককে বিদায় সংবর্ধনা

ছবি: ফোকাস মোহনা.কম।

চাঁদপুর: বাংলাদেশ এডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশন চাঁদপুর জেলা শাখার পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অঞ্জনা খান মজলিশ এঁর বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

সোমবার (৩০ মে) রাত সাড়ে ৮টায় চাঁদপুর সার্কিট হাউজে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বিদায়ী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অঞ্জনা খান মজলিশ অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, আমাদের কাজে বদলিটা একটি স্বাভাবিক পক্রিয়া। আমি কতটুকু সময় ছিলাম সেটা বড় কথা নয়। আমি কি করলাম তা হচ্ছে বড় কথা। আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব কতটুকু সম্পন্ন করতে পেরেছি, তা হচ্ছে বড় কথা। সকল প্রশংসার মালিক একমাত্র আল্লাহ। আমি অতি সাধারণ একটা মানুষ। আমার উপর অর্পিত দায়িত্বই পালন করেছি।

জেলা প্রশাসক বলেন, আমি সবসময়ই বলতাম ৩টি বিষয়ের কথা। আমি কে, আমার কাজ কি এবং কিভাবে করতে হবে। নিয়মতান্ত্রিকভাবেই আমি এগিয়ে গিয়েছি। আমার কাজটি কি এবং কিভাবে করবো তার কথা আমার সহকর্মীদের বলতাম। আমি জনপ্রিয় হতে চাইনি, আমি চেয়েছি আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে। আমি মানুষকে নয়, কাজকে প্রাধান্য দেই। কাজের সাথে আমার সম্পর্ক।

জেলা প্রশাসক এডমিনিস্ট্রেশন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা আমাদের পরিবার। তোমাদের পদে আমিও একসময় বসেছিলাম। তোমাদের কি ইচ্ছা, কি রকম সমস্যা আমি জানি। তোমাদের মত আমি বিভিন্নরকম চ্যালেঞ্জ নিয়ে আমি এই পদে এসেছি। তোমাদের কষ্টগুলো আমি বুঝি। তাই যতটা পেরেছি তোমাদের কষ্টটাকে একটু দূর করে। আর তার জন্যে তোমাদের কাছ থেকে আন্তরিকতার সহিত শতভাগ সম্পন্ন কাজটি পেয়েছি। যেহেতু তোমরা আমার পরিবার, সেহেতু তোমাদের সবকিছু দেখার চেষ্টা করেছি। জেলা প্রশাসন একটি প্রাচীন প্রতিষ্ঠান। এর গুরুত্ব অনেক। এই গুরুত্বটা তোমাদের বুঝতে হবে। আমি চাই তোমরা সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করবে। জনগণের স্বার্থে কাজ করবে। মানুষের কাছে যাবে, মানুষকে বুঝার চেষ্টা করবে। মনে রাখবে এই এলাকার জনগণের জীবনমান উন্নয়নে প্রশাসক। শুধু চেয়ারে বসে থেকে নয়, মানুষের কাছে গিয়ে কাজ করবে। আইনের মধ্যে থেকে কাজ সম্পন্ন করতে হবে। সবার সাথে সমন্বয় করে চলতে হবে। জনগণের যেন উপকার হয়, সেই কাজ করবে। খারাপ অবস্থায় পড়লে ভীতু হবে না। মনে রাখবে ওই সময় তুমি নতুন কিছু শিখতে পারবে। যত কঠিন পথ পাড়ি দিবে তত জীবনমান সহজ হবে। আমার প্রশংসা আমার একার নয়, তোমাদের সম্বলিত প্রচেষ্টায় এই প্রশংসা।

আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অনুভূতি প্রকাশ করেন সহকারি অধ্যাপক আবুল কাশেম মো. জহুরুল হক। তিনি বলেন, আমি চাই আমার সহধর্মিণী এমন হোক যে ন্যায় পরায়ন ও সৎ। আমি চাই না আমার জন্যে অফিসের কাজগুলো থেমে থাকুক। এই অঞ্জনা খান মজলিশকেই আমি চাই। আমার একমাত্র বন্ধুই আমার স্ত্রী। আমার পরিবারের জন্যে আপনাদের কাছে দোয়া চাই।

ছবি: ফোকাস মোহনা.কম।

সহকারি কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আখতার জাহান সাথী এর সঞ্চালনায় অনুভূতি প্রকাশ করেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইমতিয়াজ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সরোয়ার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি)মোছাম্মৎ রাশেদা আক্তার, মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী শরীফুল হাসান, ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা সুচিত্র রঞ্জন দাস, হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান মানিক, সহকারি কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম ফখরুল হোসাইন,  এআরএম জাহিদ হাসান প্রমূখ।

অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, আপনি আমাদের আইডল। আপনি আমাদের গর্ব। আপনি সবসময় আমাদেরকে পরিবারের মত করে আগলে রেখেছিলেন। প্রতিটা ক্ষেত্রে আপনি সফলতার পরিচয় রেখেছেন। আমাদের বিভিন্ন কার্যক্রমগুলো সম্পন্ন করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। আপনি কাজের প্রতি যেমনিই কড়া তেমনিই আবার কাজ সম্পন্ন করলে নরম। যখন সাধারণ মানুষের মুখে আপনার সুনাম শুনি তখনই নিজেদের খুব গর্বিত মনে করি। আপনার নিচে কাজ করার জন্যে। স্যার ছিলেন সততার মূর্ত প্রতিক, যা চাঁদপুরবাসী দারুন ভাবে অনুভব করে। স্যারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ দেখে আমরাও উদ্ভুদ্ধ হতাম। প্রতিটা কাজের জন্যে আমাদেরকে খুব সুন্দরভাবে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, যার কারণেই আমরাও খুব সুন্দরভাবে কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারতাম। আপনি ছিলেন স্পষ্টবাদী। কাজের পাশাপাশি নিজের পরিবারকেও সুন্দরভাবে পরিচালনা করেছেন। আপনার ন্যায়, নিষ্ঠা ও সততা আমাদের জন্যে অনুকরণীয়। অনেক সাহসী ভূমিকা নিয়েছেন। আপনি চেয়ারকে প্রাধান্য দেন নি, আপনি নিজের দায়িত্বকে সবসময়ই প্রাধান্য দিয়েছেন। চাঁদপুরবাসী আপনাকে ভুলবে না। আপনার কাজের জন্যে হয়তো চাঁদপুরবাসী নিজের কন্যার নাম রাখবেন অঞ্জনা।

অনুভূতি প্রকাশের পর বাংলাদেশ এডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশন চাঁদপুর জেলা শাখার পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেন বিদায়ী জেলা প্রশাসকের হাতে।

সবশেষে জেলার বিভিন্ন সংগঠনের পরিবেশনায় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

ফম/এমএমএ/

শাহরিয়া পলাশ | ফোকাস মোহনা.কম