চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথে অবৈধ দখলের প্রতিযোগিতা

চাঁদপুর: চাঁদপুর-লাকসাম ৫২ কিলোমিটার রেলপথের দুইপাশ দিনদিন অবৈধ দখল হয়ে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠছে। এসব দখলের প্রতিযোগিতায় কোথাও কোথাও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিও রয়েছেন। বর্তমানে যেভাবে রেলের দুপাশ দখল হচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে এ ক্ষেত্রে অসম প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। আবার অনেকে কৌশল হিসেবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দিয়ে দখল শুরু করেছেন। অবৈধ দখল উচ্ছেদ হলেও কিছুদিন পর আবার একই অবস্থার সৃষ্টি হয়।

এ রুটে সাগরিকা এক্সপ্রেস ও আন্তঃনগর মেঘনা এক্সপ্রেস ছাড়া আর অন্য কোনো ট্রেন নেই। এক সময়ের জনপ্রিয় চাঁদপুর-ভৈরব রুটে লোকাল দুটি ট্রেন দীর্ঘকাল ধরে ও ডেমু কমিউটার দুটি ট্রেনও বন্ধ হয়ে আছে। এ ছাড়া পাঁচটি রেল স্টেশনে বুকিং সহকারী থেকে শুরু করে কোনো প্রকার স্টাফ না থাকায় ১০ বছর ধরে পুরোদমে স্টেশনগুলো বন্ধ রেখেছে রেল বিভাগ। এতে অরক্ষিত হয়ে পড়েছে পুরো এ রেলপথটি। বর্তমানে বন্ধ রাখা বেশ কয়েকটি স্টেশন এলাকার পরিবেশ একদিকে যেমন ময়লার স্তূপে পরিণত হচ্ছে অপরদিকে ভবঘুরে বখাটেদের উৎপাত বেড়েছে।

সম্প্রতি চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথে বিভিন্ন উন্নয়ন হয়েছে, কিন্তু বেশ কিছু সংকট রয়ে গেছে নানা স্তরে। চাঁদপুরে রেলপথের বিভিন্ন স্থানে রেলওয়ের সম্পত্তি যে যার মতো করে দখল করে দোকানপাট নির্মাণ করছে। আবার অনেকে ঘর তুলে বসবাস করছেন।

এলাকার প্রভাবশালীসহ রাজনৈতিক ব্যক্তি ও বিত্তবানরা এ দখলদারিত্বের সঙ্গে জড়িত। আবার অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তি ও বিত্তবানরা নিজে সরাসরি দখল প্রক্রিয়ায় না গিয়ে অন্যের মাধ্যমে দখল করছে সরকারি এসব সম্পত্তি। দু’মাস আগে রেল বিভাগ এ রুটের শুধু মৈশাদী স্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করে। চালু থাকা কয়টি স্টেশন এলাকার পরিবেশ নানাভাবে নষ্ট হচ্ছে।

চাঁদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র কালীবাড়ি কোর্ট স্টেশনটির পরিবেশটি দেখে মনে হবে ময়লা-আবর্জনা রাখার স্থান। স্টেশনটির সামনে এবং পেছনে যেন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। হকাররা ফলসহ নানা কিছু নিয়ে পুরো প্লাটফরম দখল করে রেখেছে। দেখলে মনে হবে কোর্ট স্টেশনটির প্ল্যাটফরম যেন একটি বাজার। জিআরপি পুলিশকে এসব দেখেও না দেখার ভান করে চলে যেতে দেখা যায়।

চাঁদপুর বড়স্টেশন রেলের স্টেশন মাস্টার (ভারপ্রাপ্ত) শোয়াইবুল শিকদার বলেন, চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথ উন্নতি হওয়ার পর থেকে চাঁদপুরে ট্রেনের সংখ্যা কমে গেলেও বর্তমানে যে দুটি ট্রেন চলাচল করছে তাতে টাইম সিডিউল কখনোই বিপর্যয় হয়নি। সঠিক সময়ে ট্রেন চলাচল করছে।

রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) আবিদুর রহমান বলেন, বিষয়টি রেল কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে। এ রেলপথের সব অবৈধ স্থাপনা পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে বলে তিনি জানান।
ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম