চাঁদপুর মুুক্তিযোদ্ধা ক্লাবে জুয়ার আসরের প্রস্তুতি !

চাঁদপুর: চাঁদপুর শহরের মূলপ্রানকেন্দ্রেই অবস্থান চাঁদপুর মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া চক্রের। এই ক্লাবটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার অন্তর্ভুক্ত একটি ক্লাব। কিন্তু জেলা ক্রীড়া সংস্থার নামে এ ক্লাবটি হলেও তারা নিয়মিতভাবে জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজিত অনেক টুর্নামেন্টেই অংশ নেন না। আবার কোন কোন টুর্নামেন্টে অংশ নিলেও দেখা গেছে যে তাদের যেইদিন খেলা থাকে সেই দিন তারা মাঠে অংশ নেয়া দলের খেলোয়াড় নিয়ে মাঠে উপস্থিত না থেকে প্রতিপক্ষ দলকে ওয়াকওভার দিয়ে দেন।

কিন্তু এ ক্লাবটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় জেলা ক্রীড়া সংস্থার সকল সুবিধাগুলো ভোগ করছেন। অথচ তারা শুধু জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে ২য় বিভাগ ক্রিকেট লীগ ছাড়া অন্য কোন ক্রীড়া ইভেন্টে অংশ নিয়েছে কিনা তা জানা যায়নি। আর এ ক্লাবকে পুজি করে ক্লাবের গুটি কয়েকজন উপদেষ্টা ও ক্লাবের কার্যকরী কমিটির নেতারা শহরের মধ্যেই জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকাসহ উপজেলার নামকরা জুয়ারিদের নিয়ে বেশ ক’বছর ( জুয়া খেলার ) ওয়ানটেন, কাটাকাটি সহ বিভিন্ন ধরনের জুয়া চালিয়ে গেছেন।

আর শহরের নামকরা জুয়াখেলা পরিচালনাকারী চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০নং লক্ষীপুর মডেল ইউনিয়নের বাসিন্দা ও শহরের শেরাটন হোটেলের মালিকানা দাবীকারী জুয়ারি বাবুল অনেকটা উত্তেজিতভাবে বলেন যে আগামী মাস থেকে আমরা মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবের মাধ্যমে আবারো ওয়ানটেন ও কাটাকাটি খেলা সহ জুয়ার আয়োজন করবো। অবশ্যই এই জুয়াখেলা পরিচালনাকারী শহরের নামকরা স্ট্রান্ডরোড নিবাসী জুয়ারী আইউব, পুরানবাজারের একসময়ের চোরাকারবারী সেলিম, লক্ষীপুর ইউনিয়নের যুবলীগ নামধারী জাটকা মাছ ব্যবসায়ী সফিক এবং একই ইউনিয়নের বাসিন্দা বিএনপির বিপুল মিলেই শহরের বিভিন্ন স্থানে এই জুয়া খেলার আয়োজন করে থাকে এবং খেলা আয়োজন করার আগে যেই ক্লাব কিংবা স্থানের নাম বলে সেখানে তারা অবশ্যই খেলার আয়োজন করে থাকে।

গত কয়েকমাস আগে চাঁদপুর একটি দৈনিকের পাতায় ছাপানো হয়েছিলো যে সহসাই শহরের পুরানবাজারের পূর্ব শ্রীরামদী ক্লাবে হবে। এ সংবাদের এমন ধরনের কিছু লেখা নিয়ে তখন এ প্রতিবেদকের সাথে অনেক খারাপ আচরন করেছিলেন । অবশ্যই সংবাদ প্রকাশ হওয়ার কয়েকদিন পর থেকেই শহরের জুয়া পরিচালনাকরী সেই জুয়ারীরা ক্লাবটিতে ঠিকই খেলা চালিয়েছেন। বতর্মানে রাজধানী ঢাকা সহ বিভিন্ন স্থানে ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান শুরু হলেই পূর্ব শ্রীরামদী ক্লাবের খেলা বন্ধ হয়ে যায়।

জুয়ারী এ ক্লাবে খেলার আয়োজনের জন্য ক্লাবের পাশের একটি রুমও ভাড়া নেয়। জুয়ারীদেও তথ্যমতে জানা গেছে এজন পূর্ব শ্রীরামদী ক্লাবের পদবীদারি কর্মকতাদেরকে দেড়লক্ষ টাকা অগ্রিম দিয়েছিলেন। আর মাসিক টাকা সহ ক্লাবের শীর্ষস্থানীয় কর্মকতাদেরকেও প্রতিদিন মাসোহরা হিসেব করে টাকা দিতেন। এ খেলায় অংশ নেয়ার জন্য মাঝে মাঝে দেখা যেতো বিভিন্ন উপজেলার জুয়ারীদেরকে নিয়ে ক্লাবের একটি রুমের নিচে বসেই কাটাকাটি ও ওয়ানটেন খেলা হতো। আর সেই খেলা পরিচালনাকারী একজনই হচ্ছেন জুয়ারি বাবুল। তিনি গত সপ্তাহে এ ক্রীড়াপ্রতিবেদকে শহরের কোট স্টেশন এলাকায় অনেকটা উচ্চস্বরেই বলতে থাকেন যে আমরা আগামীতে শহরের মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া চক্রের মাধ্যমে অথ্যা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ৩য় ও ৪র্থ তলায় খেলার আয়োজন করবো।

চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন বয়সী মানুষজনদেও সাথে আলাপকওে জানা গেছে যে শহরের মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবে জনৈক জসিম ৮ বছর বিভিন্ন উপজেলার জুয়ারীদেও নিয়ে খেলা চালিয়েছেন। এরপর আইউব, বাবুল, সফিক, সেলিমরা প্রায় ৪ বছর এ ক্লাবের নামেই খেলা চালিয়ে গেছেন। তারাই আবার চেষ্টা করছেন জুয়া খেলা আয়োজন করার জন্য। আরো জানা যায়, এই ক্লাবে গত কয়েকমাস আগে জেলার গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় শহরের পালবাজার এলাকার নামকরা একজুয়ারী ডিবি পুলিশের উপস্থিতির কথা শুনে চারতলা থেকে লাফ দেয়। এ সময় তিনি মারাত্বক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিস্যা নেয়।

এছাড়া খেলায় অংশগ্রহনকারী বেশ কয়েক’জন জুয়ারীকে আটক করে আদালতে পাঠায়। অবশ্য তারা নাকি আদালত থেকে ছাড়া পাওয়ার পর পুনরায় বেশ কয়েকমাস নিয়মিতভাবে জুয়া খেলায় অংশ নিয়েছেন। স্থানীয় লোকজনদেও সাথে আলাপকরে আরো জানা গেছে অনেক মুক্তিযোদ্ধাগন নাকি এই জুয়ার টাকার ভাগ পেতেন। খেলা চলাকালীন সময়ে নতুনকরে মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবের কয়েকজন কর্মকতা জুয়াখেলা পরিচালনাকারীদের কাছে থেকে আগে মাসে যেই পরিমান টাকা পেতেন তার চেয়েও বেশী টাকা দাবি করার কারনে অনেকটা ঝসড়রা মাধ্যমেই জুয়া খেলা পরিচালনাকারীরা খেলার আয়োজন বন্ধ করে রাখে। শহরের নতুনবাজার কিংবা পুরানবাজারের কয়েকটি ক্লাবের সভাপতি সহ ক্লাব প্রতিষ্ঠাদের সাথে আলাপকরে কোন ব্যবস্থা করতে না পেরে পুনরায় তারা জমজমাট জুয়া খেলার আয়োজন করার জন্য জুয়া পরিচালনাকারীদেও এবং জুয়ারীদের প্রিয় ক্লাব মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবকেই বেছে নিয়েছে।

চাঁদপুর শহরের মুক্তিযোদ্ধা ক্লাব ছাড়াও শহরের তালতলার এলাকার একটি চতুর্থতলার ভবন সহ বেশ কয়েকটি স্থানে নাকি এখনও শহরের ভিভিআইপিরা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারগন সেখানে নিয়মিতভাবে আসা-যাওয়া সহ জুয়া খেলায় অংশ নিচ্ছেন।

জেলার স্থানীয় জনসাধারন সহ ক্রীড়ামোদীরা এ বিষয়ে স্থানীয় সাংসদ, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের প্রতি সুদৃষ্টি কামনা করছেন। আর এ সমস্ত জুয়া খেলা পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানান।

ফম/এমএমএ/চৌইই/

চৌধুরী ইয়াছিন ইকরাম | ফোকাস মোহনা.কম