চাঁদপুর: ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর চাঁদপুর পাক হানাদার বাহিনীর কাছ থেকে মুক্ত হয়েছিল। কিন্তু এর আগ থেকেই সশস্ত্র পাকবাহিনীকে নানা বুদ্ধিমত্তা ও কৌশলে পরাস্ত করতে শুরু করে মিত্রবাহিনী। যার ফলে পাকবাহিনী মুক্তিবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পন করতে বাধ্য হয়। ওই সময়ে চাঁদপুর সদর উপজেলার দক্ষিণে মুক্তিযোদ্ধাদের নেতৃত্বদেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ মাষ্টার।
শনিবার (৭ ডিসেম্বর) সকালে চাঁদপুরমুক্ত দিবস নিয়ে কথা হয় এই বীর মুক্তিযোদ্ধার সাথে। তিনি বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত। একসময় রাজনীতে ছিলেন সক্রিয়। এখন শুধুমাত্র ইবাদত করেই সময় কাটান। বললেন আগেরমত স্মরণশক্তি নেই। কিছু সময় পূর্বে বলা কথাও ভুলে যান।
তিনি ৮ ডিসেম্বর চাঁদপুরমুক্ত দিবস সম্পর্কে বলেন, ওই দিন সকালে আমি এবং আমার সহযোদ্ধা শহীদুল্লাহ ভুঁইয়া, হোসেন ব্যাপারী বহরিয়া বাজারে ছিলাম। ঠিক ওই সময় পাক সেনাদের একটি জাহাজ মেঘনা নদী দিয়ে চাঁদপুরের দিকে যাচ্ছিল। তখন মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান জানান দিতে আমার হাতে থাকা গ্রেনেড ছুড়ি। তখন আওয়াজ হলে পাকবাহিনী পাল্টা গুলি ছুড়ে। তখন ওয়াবদা সংলগ্ন ওই স্থানে একটি গবাদি পশু এবং একটি কিশোর ছেলের মৃত্যু হয়। এরপর পাকবাহিনী তিন নদীর মোহনায় আসার পরে মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসর্মণ করে। এভাবেই ৮ ডিসেম্বর চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন অঞ্চলমুক্ত হয়।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আমি সাথে একটি গ্রেনেড রাখতাম। যদিও পাকবাহিনীর সাথে যুদ্ধ করার জন্য এই গ্রেনেড কিছুই না। তারপরেও মনের মধ্যে সাহস যোগানের জন্য সাথে রাখতাম। ৯ মাসের এই যুদ্ধে অনেক ঘটনাই মনে দাগ কাটে। তবে আমাদের নিজ পরিবারের সাথে বড় একটি ঘটনা ঘটে।
ডিসেম্বর মাসেই বহরিয়া বাজারে আমার বড় ভাইয়ের ডাক্তারি চেম্বার ও আমাদের বাড়ির বসতঘর চাঁদপুর থেকে পাকবাহিনী গিয়ে আগুনে পুড়িয়ে দেয়। আমার এই ভাইয়ের চেম্বারে অনেক গুনিলোকজন গিয়ে ওই সময়ে বসতেন এবং সময় কাটাতেন।
এই বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, আমরা যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে নিয়ে এই দেশ স্বাধীন করেছি, তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি। মানুষের মধ্যে দেশপ্রেমের অভাব রয়েছে। বিগত ৫ আগস্টের পরে চাঁদপুরে অনেক ঘটনা ঘটেছে, যা আমি ব্যাক্তিগতভাবে সমর্থন করি না। আমি বহুদিন রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিলাম। নানাভাবে নিজ এলাকাসহ অসহায় মানুষের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছি। প্রশাসন আহবান করলে এখনো দেশের স্বার্থে নানা কাজে গিয়ে সহযোগিতা করি।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ মাষ্টার বর্তমানে শহরের পুরান বাজার নিজ বাড়ীতে বসবাস করেন। পুরাণ বাজার নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। গ্রামের বাড়ি সাখুয়া অর্থাৎ বর্তমান লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের বহরিয়া। তিনি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর ওই ইউনিয়নে প্রশাসন কর্তৃক মনোনীত চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়াও তিনি জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি চাঁদপুর জেলার উপদেষ্টা। এরপূর্বে তিনি সদর উপজেলা ও জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
ফম/এমএমএ/

