চাঁদপুরে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালিন সব্জির আবাদ

চাঁদপুর:  চাঁদপুরে ব্যাপক হারে শীতকালীন শাক সব্জি লাগানো শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলার মতলব উত্তর ও সদর উপজেলার কৃষকরা বাজারে লাল শাক, মুলার শাক ও ধনিয়াপাতা সরবরাহ শুরু করেছেন। বর্ষার পানি জমিতে থাকার কারণে কেউ কেউ এখন সব্জির জন্য জমি তৈরী করছেন। চরাঞ্চলের মরিচ ও উচ্চ ফলনশীল টমেটু ফলন দিবে একমাসের মধ্যে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অন্য জেলায়ও রপ্তানি করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। ডিসেম্বর মাসের শেষ পর্যন্ত শাক সব্জির আবাদ অব্যাহত থাকবে।

চাঁদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, চলতি বছর জেলায় শীতকালীন শাক শব্জি আবাদের লক্ষ্যমাত্রাছিলো ৫০১০ হেক্টর। গত ১মাসে জেলার ৮ উপজেলায় আবাদ হয়েছে ২হাজার ১শ’ হেক্টর। এর মধ্যে মতলব উত্তর উপজেলায় আবাদ হয়েছে ৯১০ হেক্টর, সদর উপজেলায় আবাদ হেয়ছে ৯০০ হেক্টর। সবচাইতে কম আবাদ হয়েছে মতলব দক্ষিণ উপজেলায় ৩৬০ হেক্টর। আর বাকী উপজেলায় আবাদের প্রক্রিয়া চলছে।

বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) সকালে চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে মেঘনা নদীর পাড়ে গিয়ে দেখাগেছে কৃষকরা শীতকালীন সব্জির জন্য অনেকেই জমি প্রস্তুত করছেন। আবার অনেকের শব্দি বড় হয়েছে এবং বিক্রিও শুরু করেছেন। অধিকাংশ জমিতে লাল শাক, মুলার শাক, ধনিয়া পাতা, খিরাই, কুমড়া, লাউ, পুঁই শাক, টমেটোর আবাদ হয়েছে। তবে মেঘনা পাড়ের জমিগুলো বেশীরভাগ কৃষক খিরাই আবাদ করেন। এছাড়া মতলব উত্তর উপজেলায় খিরাই আবাদের জন্য জনপ্রিয়।

চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের কৃষক হানিফ মিয়া জানান, গত ১মাস পূর্বেই তিনি তার জমিতে লাল শাক, মুলার শাক ও ধনিয়া পাতার আবাদ শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে বাজারে কয়েকবার বিক্রি করছেন। তবে ঘুর্ণিঝড় বুলবুল তার জমির মুলার শাক কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। যার কারণে এখন আবার আবাদ করেছেন।

একই গ্রামের কৃষক শাহজাহান ও জাহাঙ্গীর খান জানান, মেঘনা পাড়ের কৃষকরা পলি মাটির কারণে বেশীরভাগ জমিতে খিরাই আবাদ করেন। কারণ খিরাই আবাদ করা হলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে তারা আড়তেও বিক্রি করেন। প্রত্যেক কৃষক কমপক্ষে প্রতিবছর ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকার খিরাই বিক্রি করেন।

চাঁদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসার অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুর রশীদ বলেন, চাঁদপুর জেলায় শীতকালীন সব্জির আবাদ লক্ষ্যমাত্রার আলোকে প্রায় অর্ধেক সম্পন্ন হয়েছে। ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে বাজারে স্থানীয় শব্জি পুরোপুরি আমদানি শুরু হবে। প্রাকৃতিক কোন দূর্যোগ না থাকলে লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন হবে এবং কৃষকরাও লাভবান হবেন।

ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম