চাঁদপুরে পচা মহিষের মাংস বিক্রয় হচ্ছে হোটেল-রেস্তোরাঁয়

চাঁদপুর: চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁয় গরুর মাংসের নামে খাওয়ানো হচ্ছে ভারত থেকে আমাদানী নিষিদ্ধ মানহীন ও পচা মহিষের মাংস। খাবার অযোগ্য এসব মাংস মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কম দামে তা পাওয়ায় ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন হোটেল- রেস্তোরাঁর মালিকরা।

হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর সদর, কচুয়া, শাহরাস্তি, মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ, হাইমচর ফরিদগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব মাংস বিক্রি হচ্ছে দেদারসে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, হাজীগঞ্জের টোরাগড়ে ফ্রিজিং করা ভারতীয় মহিষের মাংসের ডিপো। ডিপো থেকে মাংসগুলো চলে যায় জেলার অন্যতম হোটেল ব্যবসায়ীক কেন্দ্র হাজীগঞ্জ, চাঁদপুরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার নামী-দামী হোটেলে। এসব হোটেলে প্রবেশের পরেই পঁচা মহিষের মাংস হয়ে যায় দেশীয় গরুর সু-স্বাদু মাংস।

হাজীগঞ্জে এক সময় বিভিন্ন হোটেল রেস্তোরায় মেসিয়ারের কাজ করতেন মামুন। সে এখন চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিক্রয় করে আসছে ভারত থেকে চোরাই পথে আনা পচা মহিষের মাংস। এ সব মাংসের গায়ে লেখা নেই মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ। আমদানী নিষিদ্ধ এসব মাংস বিক্রয় হয়ে থাকে রাস্তার পাশে ফুটপাতে বিক্রয় হওয়া নামী-দামী বিরিয়ানিসহ দামী রেস্তোরায়। এসব রেস্তোরায় সহজে এগুলোকে দেশীয় গরুর মাংস বলে বিক্রয় করে চলছে হরহামেশায়।

দামের বিষয়ে জানতে চাইলে মামুন বলেন, ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে এসব মাংস বিভিন্ন হোটেলে কালো ভূনা, বিরিয়ানি ও ভুনা খিচুড়ি তৈরীর জন্য বিক্রয় করা করা হয়। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দামও বেড়েছে। আমাদানী বা বাজারজাত করার জন্য কোন কাগজ দেখাতে পারেনি মামুন।

হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, আমার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মামুনের বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে মানহীন পচা মাংস উদ্ধার করেছি। এটি আসলে মহিষের মাংস না গণ্ডারের মাংস তা বলতে পারছিনা।
তিনি বলেন, জেলায় মামুনসহ আরো ২ অসাধু ব্যবসায়ী আমদানি নিষিদ্ধ এ মাংস বিভিন্ন খাবার হোটেলে কম দামে বিক্রয় করে বলে আমরা জানতে পেরেছি।

ফম/এমএমএ/

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম