চাঁদপুরে ন্যায্য মূল্যের চাল বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ!

চাঁদপুর: চাঁদপুর সদর উপজেলার তরপুরচন্ডী ইউনিয়নে ন্যায্য মূল্যের চাল বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) তরপুরচন্ডী ইউনিয়ন কাশিমবাজার এলাকায় খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি আওতায় সুলভ মূল্যে কার্ডধারীদের মাঝে ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চাল বিক্রি করা হয়। তবে কেজি প্রতি ১৫ টাকা করে ৩০ কেজি চাল দেয়ার কথা থাকলেও ২৫ থেকে ২৬ কেজি করে চাল দেয়া হচ্ছে কার্ডধারীদেরকে।

সরজমিনে গিয়ে কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানাগেছে, কেজি প্রতি ১৫ টাকা করে ৩০ কেজি চালের জন্য ৪শ’ ৫০টাকা জমা নিয়ে দেয়া হচ্ছে ২৫ থেকে ২৬ কেজি চাল। এছাড়াও লেবার খরচের কথা বলে প্রতি কার্ডধারী থেকে অতিরিক্ত ২০ টাকা করে নিচ্ছেন ন্যায্য মূল্যে চাল বিক্রির পরিবেশক আনোয়ার হোসেন ছৈয়াল (আনু ছৈয়াল)।

১৫ টাকা কেজি ধরে চাল ন্যায্য মূল্যের কার্ডধারী মোহাম্মদ আলী হোসেন গাজী, মাসুদ খান ও ইদ্রিস ঢালী বলেন, আমরা অসহায় মানুষ, প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে উপহার হিসেবে ন্যায্যমূল্যের কার্ড দিয়েছেন। আমাদেরকে ১৫ টাকা করে কেজি ধরে ৩০ কেজি চাল দেয়ার কথা। ডিলার আমাদের কাছ থেকে ১৫ টাকা করে ৩০ কেজি চালের টাকা নিচ্ছেন। সব সময় কার্ড নিয়ে ডিলারের কাছ থেকে চাল আনতে গেলে তিনি তাড়াহুড়া করে আমাদেরকে চাল দিয়ে বিদায় করে দেন। তিনি চাল ওজন করে আমাদেরকে দেন না। চালগুলো আগেই প্যাকেট করা থাকে। আমরা গেলে স্বাক্ষর রেখে প্যাকেট ধরিয়ে দেয়। ওজন করার কথা বললে তিনি আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন। এছাড়াও লেবার খরচের কথা বলে অতিরিক্ত ২০ টাকা করে নিচ্ছেন।

আরেক কার্ডধারী মোহাম্মদ আলী হোসেন গাজী বলেন, ডিলার আনু ছৈয়াল ওজন করা ছাড়া চালের বস্তা দিলে আমি বাহিরে এসে একটি মুদি দোকানে চাল ওজন করি। তাতে ৩০ কেজি চালের জায়গায় ২৫ কেজি ১০০ গ্রাম চাল পাই। প্রধানমন্ত্রী আমাদের জন্য ৩০ কেজি চাল দিচ্ছে। কিন্তু পরিবেশক আমাদেরকে চাল কম দিচ্ছেন কেন? এটা আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ৩০ কেজি চালের টাকা নিয়ে আমাদেরকে যেন আমাদের পাওনাটা বুঝিয়ে দেন।

তরপুরচন্ডী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইমাম হাসান রাসেল গাজীর সাথে কথা হলে তিনি এ বিষয়ে বলেন, আমার কাছেও এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগ এসেছে। আমরা কর্তৃপক্ষকে জানাব। যেন প্রধানমন্ত্রীর উপহার সঠিকভাবে বিক্রি করা হয়।

চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফাহমিদা হক বলেন, ন্যায্য মূল্যের চাল অবশ্যই ওজন করে বিক্রি করতে হবে। যদি কোন ডিলার চাল বিক্রির সময় ওজন করার মেশিন না রাখে, তাহলে বুঝতে হবে সেখানে কোন ঝামেলা আছে। তাই প্রত্যেক পরিবেশক চাল বিক্রি ওজন করেই দিতে হবে, সেটা বাধ্যতামূলক। তবে অভিযোগের বিষয়ে আমরা তদন্ত করে দেখব। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অভিযুক্ত পরিবেশক আনোয়ার হোসেন আনু ছৈয়াল বলেন, আমরা চাল কম দেই না। বস্তায় চাল কম থাকলে সেটা সিএসডি গোডাউনের দায়।
ফম/এমএমএ/

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম