চাঁদপুরে নিমির্ত হচ্ছে আধুনিকমানের নৌ টামির্নাল ও লঞ্চঘাট

কমবে যাত্রী ভোগান্তি

চাঁদপুর: চাঁদপুরে আধুনিক মানের বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ টামির্নাল ও লঞ্চঘাট নিমির্ত হচ্ছে , যেখানে থাকবে যাত্রী সাধারনের সকল সুবিধাদি । আগামী অক্টোবর /নভেম্বরেই নির্মান কাজ শুরু হচ্ছে । এ কাজ শুরু হবে বতর্মান টামির্নাল ও লঞ্চঘাট এলাকাতেই, ২.৪০ একর জমিতে ।

বিশ্বব্যাংক প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পর কাজ শুরু করবে।কাজ দেখাশুনা করবে বিআইডব্লিউটিএ । এ প্রকল্পের ইতিমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে । এখন চলছে ইভালুয়েশনের কাজ ।

বাস্তবে কাজ শুরু হবে আগামী অক্টোবর/নভেম্বরে- একান্ত আলাপনে এসব তথ্য জানান চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএ’র উপ-পরিচালক একেএম কায়সারুল ইসলাম।

তিনি আরো জানান, একটি আধুনিক নৌ টামির্নাল ও লঞ্চ ঘাটে যাত্রীদের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা ও সুযোগ সুবিধা থাকবে। যেমন নৌ বন্দর অফিস সমূহ, এবং যাত্রীদের জন্য ওয়াশরুম, বিশুদ্ব পানির ব্যবস্থা, বসার জায়গা, নামাজের জায়গা, মহিলা যাত্রীদের ওয়েটিং রুম ও ব্রেষ্টফিডিং কর্নার ইত্যাদি সব সুবিধাই থাকবে।

উল্লেখ্য, ব্রিটিশ আমল থেকেই নদীবন্দর হিসেবে চাঁদপুরের গুরুত্ব অনেক। তখন ইতিহাসের পাতায় চাঁদপুরকে বলা হতো অবিভক্ত বাংলার আসাম- বেংগলের সিংহদ্বার । এখান দিয়েই সিলেটের কমর্রত শতশত চা বাগানের কুলিরা ও এদেশের ভারতগামী লোকজন চাঁদপুর হয়ে স্টীমার- রকেটে ফরিদপুরের গোয়ালন্দঘাট হয়ে আসাম যাতায়াত করতো। এ গুরুত্ব এখনো কমেনি। বরং দিন দিনই বাড়ছে ।ব্যবসা বাণিজ্যও প্রসার হয়েছে প্রচুর।

এসব গুরুত্ব বুঝেই গত ২০১৮ সালের ৪নভেম্বর তৎকালীন নৌপরিবহন মন্ত্রী মো: শাহজাহান খান এঘাটে আধুনিক নৌ টামির্নাল ভবন, লঞ্চঘাট ও অন্যান্য অবকাঠামোগত কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন আনুষ্ঠানিকভাবে। তখন নৌ-পরিবহন সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে মেজর অব: রফিকুল ইসলাম (বীর উত্তম) এম পি এবং চাঁদপুর সদর-হাইমচর এলাকার সাংসদ ডা: দীপু মনি এমপি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তখন নৌ-মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন জনগনের সুবিধার্থে এখানে আধুনিক নৌ টামির্নাল ভবন ও লঞ্চঘাট নির্মিত হবে।
কিন্তু করোনা মহামারীর কারনে এ প্রকল্পের কাজে আসে মন্থর গতি।

লঞ্চ মালিকদের প্রতিনিধি আলী আজগর ও রুহুল আমিনসহ সবাই এখবরকে স্বাগত জানান।

শহরের লোকজন ওএখবরে আনন্দিত । তারা এর দ্রুত বাস্তবায়নের আহবান জানান।

এ জেলায় বিগত দশ/বারো বছরে , সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায়, সড়ক –মহাসড়কে দীর্ঘ যানঝট থাকার কারনে চাঁদপুর ছাড়াও আশ পাশের -রামগঞ্জ, রায়পুর ও লক্ষীপুর , ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ ও হাইমচরের শতশত লোক প্রতিদিন ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এখান থেকে পর পর ছেড়ে যাওয়া ২৮ টি যাত্রীবাহী লঞ্চে নিয়মিত চাঁদপুরঘাট হয়ে স্বল্প ব্যয়ে ও স্বল্প সময়ে আরামে নৌপথে মুন্সিগঞ্জ, নারায়নগঞ্জ, ঢাকা সদর ঘাটে, ফরিদপুর, শরিয়তপুর, বরিশালে যাতায়াত করছে ও নিরাপদে আবার ফিরে যাচ্ছে রায়পুর, রামগঞ্জ ও লক্ষীপুরে অটোরিক্সা যোগে।

চাঁদপুরের শ্রমজীবী ‍যুবক সুমন মিয়া ও জাকির হোসেন, মোস্তফা কামাল জানায়- আমরা লঞ্চের ডেকে বসে ১০০ টাকা দিয়ে চাঁদপুর থেকে লঞ্চে ঢাকা যাই আবার আসিও ১০০ টাকা দিয়ে । অনেক সময় ৮০/০০ টাকাও দেই। ফরিদগঞ্জের আইয়ুব, মাসুদ ও ফারুক জানান, আমরা অটোরিক্সায় চাঁদপুর আসি ৩০ মিনিটে। এভাবেই রাজধানীতে লঞ্চে অল্প টাকায় ও সময়ে যাই আসি।

উল্লেখ্য, স্মরনকরা যেতে পারে যে, গত ২০০০ সালে প্রমত্তা মেঘনার ভয়াবহ ও আকস্মিক ভাংগনে পুরনো নৌ টামির্নাল ভবন ও লঞ্চঘাট ও অন্যান্য স্থাপনাসমুহ কয়েকদিনেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। তখন শহরের মাদ্রাসা রোডের বতর্মান স্থানেই এ লঞ্চঘাট স্থানান্তর করা হয়। এখানে অনেক অসুবিধার কারনে যাত্রী সাধারনকে অনেক কষ্ট পোহাতে হয় ।ঘাটের পন্টুন তিনটি ছোট ছোট । নেই বসার জায়গা, দাঁড়ানোর জায়গা, বিশুদ্ব পানির ব্যবস্থা, ওয়াশরুম, বৃষ্টিতে ভিজতে হয় উঠতে- নামতে । ৩টি গ্যাংওয়ের উপড়ে ছাউনি নেই, কাঠের সিড়িগুলি খাড়া খাড়া,। পকেট মারদের উপদ্রবতো আছেই। ইদ ও বিভিন্ন উপলক্ষে শত সহস্র যাত্রীদের ভীড়ের সময় জনভোগান্তির শেষ নেই ।
ফম/এমএমএ/

দেলোয়ার আহমেদ | ফোকাস মোহনা.কম