চাঁদপুরে টাস্কফোর্সের অভিযানে ১৮০ মামলায় ১৭৩ জেলের কারাদন্ড

মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের ফাইল ছবি।

চাঁদপুর: জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় চাঁদপুর জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স পদ্মা-মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় ৩৮৯টি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ ধরায় ১৮০ মামলায় ১৭৩ জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ অক্টোবর) রাতে চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানাগেছে, অভিযানের ২২ দিনে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হয় ৮৮টি। অভিযান পরিচালিত হয় ৩৮৯টি। পরিদর্শন করা হয় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ৪৪টি, মাছঘাট ২৯০টি, আড়ৎ ৩৪৫৭টি এবং বাজার ১০৫২টি।

অভিযানের সময় জেলেদের কাছ থেকে জব্দ করা হয় ২ হাজার ৭৩৭ কেজি ইলিশ। জাল জব্দ করা হয় ৪৪ লাখ ৮৬ হাজার মিটার। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৪ কোটি ৭৯ লাখ ৭ হাজার টাকা।

এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ১৮০টি। জরিমানা আদায় করা হয়েছে ৬১ হাজার ৭শ’ টাকা। জেলা দেয়া হয়েছে ১৭৩ জেলেকে। দুটি নৌকা নিলামে বিক্রি হয়েছে ৭৭ হাজার ৩শ’ ৫০ টাকা।

এছাড়া নৌ পুলিশ কর্তৃক আটককৃত জেলেদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা হয়েছে ৭৮টি। এসব মামলায় জেল হয়েছে ৪৪২জন জেলের।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. গোলাম মেহেদী হাসান বলেন, ২২ দিন জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত পদ্মা-মেঘনার প্রায় ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়। মা ইলিশ রক্ষার এই অভিযানে আমরা সফল হয়েছি। কারণ জেলা ট্রাস্কফোর্সের পক্ষ থেকে যেসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, সেসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত ছিল।

তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যেসব জেলে নদীতে নেমেছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় কাউকে ছাড় দেইনি। জেলার নিবন্ধিত ৪৪ হাজার ৩৫জন জেলকে ২৫ কেজি করে খাদ্য সহায়তা চাল দেয়া হয়েছে। আশা করছি সকলের প্রচেষ্টায় আগামীতে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
ফম/এমএমএ/

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম