চাঁদপুর: “পাট শিল্প গড়ে তুলুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুন “এ প্রতিপাদ্যে চাঁদপুরে জাতীয় পাট দিবস উপলক্ষে র্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার ( ৬ মার্চ) সকালে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ও পাট অধিদপ্তরের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সম্মুখ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালী বের হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। র্যালী শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এরশাদ উদ্দিন বলেন, পাট হচ্ছে গোল্ডেন ফাইবার সোনালী আঁষ। আমরা ছোটবেলায় পাটের রচনা পড়েছি। আগে পাটের বস্তা পাটের ব্যাগের অনেক প্রচলন ছিল। এখন পাটের ব্যবহার নাই বললেই চলে। কারণ পাটকল সব বন্ধ হয়ে গেছে। চাঁদপুরের পাটকল দুইটাই বন্ধ। বাংলাদেশের সবচাইতে বড় পাটকল আদমজী জুট মিল ২০০১ সালে বন্ধ হয়ে গেছে। এখন বাংলাদেশের পাটকলই যদি না থাকে তাহলে পাটের ব্যবহার হবে কিভাবে। পাটের বস্তা সেটাও আমরা তৈরি করি না। আমরা বাইরের দেশ থেকে আমদানি করি। তাহলে পাট চাষিরা আগ্রহ পাবে কিভাবে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের পাটকল গুলো বন্ধ করার পেছনে বিশাল একটি ষড়যন্ত্র ছিল। অর্থনীতিতে একটা টার্ব আছে ডাম্পিং, ডাম্পিং টা হচ্ছে এরকম আমার দেশে বাহিরের থেকে একটা পণ্য আমদানি করবে। ধরেন ভারতের কথাই, ভারতে চিনির কেজি ১০০ টাকা। আমার দেশে বিক্রি করে ৮০ টাকা কেজি। কারণটা কি ছিল এটা আমার দেশের চিনি ১০০ টাকা কেজি তার নিচে তো বিক্রি করতে পারবো না। একই চিনি ভারত থেকে আসতেছে সেটা ৮০ টাকা কেজি। তখন আমি আর বাংলাদেশের উৎপাদিত চিনি আর কিনব না। আমি কি করবো ভারতের যে চিনি ৮০ টাকা কেজি সেটা কিনব। তার ফলে আমার দেশের চিনিটা আস্তে আস্তে বিক্রি কমে গেল। পরে কেউ উৎপাদন করবে না আস্তে আস্তে চিনি কল গুলি বন্ধ হয়ে যাবে। আপনি তো আর বাংলাদেশর চিনি খেতে পারতেন না। যখন আমদানি কারক দেশ জানতে পারবে যে আমাদের তো চিনিকল সব বন্ধ হয়ে গেছে তখন তারা ৮০ টাকা চিনি ২০০ টাকায় খাওয়াবে। বিকল্প তো কিছু নাই যেখানে আখের উৎপাদন নাই চিনির কল নাই। এটাই হচ্ছে ডাম্পিং এ ডাম্পিং এর ফলেই আমাদের সব পাটকল বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আমি কয়েকদিন আগে ভারতে গিয়েছিলাম। ভারতের কোন মার্কেটে বিদেশি কোন পণ্য নাই। তারা নিজের দেশের পণ্য ব্যবহার করে। যা পাবেন মেড ইন ইন্ডিয়া যা কিনবেন মেড ইন ইন্ডিয়া বাইরের কোন পণ্য তাদের দেশে বিক্রি করে না। দেশীয় প্রোডাক্ট এর উপর তাদের মায়া আছে। কিন্তু আমাদের নাই। আমাদের মধ্যে যদি দেশ প্রেম থাকতো তাহলে এ পাটের কল চিনির কল বন্ধ হতো না।
সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নাজমুল হুদার সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ আবু তাহের, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাদিরা নূর, প্রেস ক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী,
টেলিভিশন ফোরামের সভাপতি ও সাবেক প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কাদের পলাশ।
স্বাগত বক্তব্য দেন চাঁদপুর পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ জহুরুল ইসলাম। কৃষকদের মধ্যে বক্তব্য দেন মতলব দক্ষিণের পাট চাষী মনিরুজ্জামান।
ফম/এমএমএ/



