চাঁদপুর: ঢাকা-চাঁদপুর নৌরুট সহ দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে চলাচলকারী যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো প্রতিবছর শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনায় কবলিত হয়। লঞ্চ ছাড়াও অন্য নৌযানেও বাদ পড়ে দুর্ঘটনার কবল থেকে। এতে করে প্রতিবছরই অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে কুয়াশার সময় নৌ যান চলাচল বন্ধ করে রাখার নির্দেশনা না থাকলেও অনেকেই তা মানছেন না। যার ফলে দুর্ঘটনা বাড়ছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দিনগত রাতে ঢাকা থেকে বরিশাল নৌ রুটে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এর মধ্যে একটি দুর্ঘটনায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৫ জন।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দিনগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে মেঘনা নদীর চাঁদপুরের হাইমচর সীমান্তবর্তী নীলকমল বাংলা বাজার এলাকায় ঢাকাগামী জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চের সঙ্গে ঝালকাঠিগামী অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন-ভোলার লালমোহন উপজেলার কাজিরাবাদ এলাকার সিরাজুল ইসলাম ব্যাপারীর ছেলে আব্দুল গণি (৩৮), একই গ্রামের মো. কালু খাঁর ছেলে মো. সাজু (৪৫), কচুখালি গজারিয়া গ্রামের মিলনের স্ত্রী রীনা (৩৫) ও চরফ্যাশন উপজেলার আহিমেদপুর গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে মো. হানিফ (৬০)।
এদিকে ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচলকারী লঞ্চ এম খান-৭ ও চাঁদপুর থেকে ঢাকাগামী ঈগল-৪ লঞ্চের মধ্যেও সংঘর্ষ হয়েছে। আমিরাবাদ এলাকায় এ সংঘর্ষে এম খান-৭ লঞ্চটি মাঝখান থেকে ভেঙে যায়। তবে ঈগল-৪ লঞ্চের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অপরদিকে চাঁদপুরের মতলব উত্তরে মেঘনা নদীতে বাল্কহেডের সাথে ধাক্কা লেগে যাত্রীবাহী লঞ্চ ‘এমভি ইমাম হাসান-৫’ বিকল হয়ে পড়েছে। তবে এই ঘটনায় কেউ হতাহতয় হয়নি। যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দিনগত রাত পৌঁনে ১২টার দিকে মেঘনা নদীর মতলব উত্তর উপজেলার এখলাছপুর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার এই তথ্য নিশ্চিত করেন মতলব উত্তর মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পুলিশ পরিদর্শক) মোহাম্মদ আলী।
বিআইডাব্লিউটি এর একাধিক কর্মকর্তার সাথে আলাপ করে জানাগেছে, প্রতিবছরই সরকারের পক্ষ থেকে লঞ্চমালিক সহ নৌযান কর্তৃপক্ষকে ঘন কুয়াশার সময়ে নৌ যান চলাচল বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়। এ বছরও তার ব্যাতিক্রম হয়নি। তারপরেও নৌযানগুলো তাদের ইচ্ছেমত পরিচালনা করায় এই দুর্ঘটনা ঘটছে। সচেতনতা বৃদ্ধি না হলে এই ধরণের দুর্ঘনা ও মৃত্যুর মিছিল লম্বা হবে।
ফম/এমএমএ/


