গ্রামের ঔষধ বিক্রেতাদের লাগাম টেনে ধরবে কে?

চাঁদপুর: শহরের ঔষধের ফার্মেসীতে মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান হলেও গ্রামের দোকানগুলোতে কোন ধরণের মনিটরিং নেই। শহরের ঔষধ বিক্রেতারা প্রশাসনের ভয়ে ভেজাল কম করলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলে দুই যুগেও একবার প্রশাসনের লোকদের অভিযান পরিচালিত হয় না। যার ফলে গ্রামের অতি সাধারণ মানুষের কাছে পল্লী চিকিৎসকরা ইচ্ছেমত নামে বেনামের ঔষধ কোম্পানীর নিম্নমানের ঔষধ বিক্রি করেন। কারণ গ্রামের অধিকাংশ মানুষ মেয়াদ না দেখেই ঔষধ ক্রয় করেন। কোম্পানী যাছাই বাচাই করারত প্রশ্নেই আসে না। তারপরে কোন ঔষধ কম মূল্যে পাওয়া যায় সেই প্রতিযোগিতা রয়েছে।

পেশাগত কারণে এই প্রতিবেদক জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরতে হয়। সময় পাওয়াগেলেই গ্রামের বাজারগুলোর হালহকিত ঘুরে ঘুরে দেখা হয়। গ্রামের মানুষ কোন জায়গায় ঠকছে। কোন পন্য দিয়ে ভোক্তাদের ঠকানো হচ্ছে।

চাঁদপুর সদর ও অন্যান্য উপজেলার গ্রামের বাজারগুলোতে ঔষধের ফার্মেসী দেখাগেছে পল্লী চিকিৎসকরা তাদের নামের আগে ডাঃ লিখে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এই প্রতিবেদকের সাথে বহুবার এই ধরণের পল্লী চিকিৎসকের সাথে ডাঃ লেখা নিয়ে কথা হয়। অনেকেই ভুল হয়েছে, আর লিখবনা। নামের আগে ডাঃ মুছে ফেলবেন। আবার কেউ কেউ ডাঃ লেখাকে বৈধ বলেও মনে করেন।

বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) সদর উপজেলার চান্দ্রা চৌরাস্তা মোড়ের পশ্চিমে আখনের হাট সড়কে একই বাজারে ৩টি দোকান পাওয়াগেলো। ৩টিতেই ঔষধ বিক্রি করেন। কোন দোকানে সাইনবোর্ড কিংবা দোকানের নাম নেই। সাঁটার বন্ধ করে দিলে বুঝা যাবে না, এগুলো কি ফার্মেসি। বিক্রেতারা কেমিস্ট হওয়াত দূরের কথা, তাদের নামই কোথাও দেখাগেলো না।

সরকারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে গ্রামকে শহরে পরিণত করা। কিন্তু গ্রামের এই গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থার তত্ত্বাবধান না থাকলে নাগরিক সেবা বাস্তবায়ন হবে না। সরকারের ঔষধ প্রশাসনের জনবল বৃদ্ধিসহ নতুন করে পরিকল্পনা ছাড়া এইধরণের ঔষধ ব্যবসায়ীদের লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হবে না।

ফম/এমএমএ/

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম