গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন কাজে কঠোর হচ্ছেন কর্মকর্তারা

ছবি: ফোকাস মোহনা.কম।

চাঁদপুর : গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন কাজের জন্য বিভিন্ন প্রকল্পে ২০২২-২৩ অর্থ বছরে বরাদ্দ দিয়েছে ৪৭ কোটি ৯৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এসব প্রকল্পের কাজ বর্তমানে চলমান। চলতি জানুয়ারি মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে এসব কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা। চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এসব প্রকল্পের কাজে জনপ্রতিনিধিদের অনিয়মের কারণে মাঠে নেমেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তারা। নিয়মানুসারে কাজ সঠিকভাবে হয়েছে কিনা সরেজমিন পরিদর্শন করা হচ্ছে।

চাঁদপুর জেলা ত্রাণ শাখার দেয়া সূত্রে জানাগেছে, চলতি অর্থ বছরে চাঁদপুরের ৮ উপজেলার জন্য গ্রামীন অবকাঠামো রক্ষনা বেক্ষণ (টিআর) প্রকল্প এসেছে ৮৮৪টি। গ্রামীন অবকাঠামো সংস্কার প্রকল্প (কাবিখা ও কাবিটা) ৬৫৭টি। অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) ৪৬৪টি। হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) প্রকল্প ১৯টি।

এসব কাজ শুরু হয়েছে ২০২২ সালের ২২ জুলাই। শেষ হতে হবে চলতি মারেস ৩০ তারিখে। গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন কাজের অর্থ বছরের এটি প্রথম পর্যায়। দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হবে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি মধ্যে।

চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ও বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে গিয়ে দেখাগেছে কয়েকটি সড়ক সংস্কারের কাজ চলমান। আবার কয়েকটি কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে বাগাদী ইউনিয়নে সেচের জন্য খাল সংস্কার কাজে অনিয়ম দেখা দিলে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা শাহনাজ।

এদিকে হাইমচর উপজেলার ২নম্বর আলগী উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের ৫নম্বর ওয়ার্ডে মীর বাড়ি রাস্তা হতে সোনা গাজী বাড়ি হয়ে শাহ আলম মিয়াজীর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা পুন:নির্মাণ না করে প্রকল্পের টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠে। এই বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চাই থোয়াইহলা চৌধুরী।

জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কাজের অনিয়ম দেখা দেয়ায় নড়েচড়ে বসে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তারা। সম্প্রতি জেলার শাহরাস্তি উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সবুজ নিজেই পরিদর্শনে নামেন প্রকল্পের কাজ দেখার জন্য। তিনি একদিনেই উপজেলার চিতোষী পূর্ব, মেহেরদ দক্ষিণ ও রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি প্রকল্প পরিদর্শন করেন।

রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের বিজয়পুর গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন জানান, আমাদের ইউনিয়নের মূল পাকা সড়ক থেকে গ্রামে যাওয়ার জন্য সড়কটি খুবই খারাপছিল। বৃষ্টি আসলে চলাফেরা খুবই কষ্ট হত। এখন মাটি কেটে সংস্কার করায় খুবই ভাল হয়েছে।

ওই উনিয়নের চেয়ারম্যান রুহুল আমিন জানান, বিজয়পুর সড়কটির মেরামত কাজ চলছে। এটি নির্মাণ কাজ শেষ হলে বিজয়পুর, আহম্মদ নগর, প্রশন্নপুর, কুরকামতা, পটিকক্ষিরা, নাহারা, পরানপুর গ্রামের হাজার হাজার বাসিন্দা এবং স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধা হবে।

মেহের দক্ষিণ ইউনয়নের দারুনকরা ব্রীজ এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান জানান, আমাদের খালপাড় এলাকার সড়কটি চলাচলের অযোগ্য ছিল। মাটি কেটে সংস্কার করায় এখন খুবই সুন্দর হয়েছে। গ্রামের কৃষকরা তাদের মালপত্র নিতে পারবে এবং ছোট যানবাহনও চলতে পারবে।

চিতোষী পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আলম বেলাল জানান, ইউনিয়নের কালোচোঁ গ্রামের মানিক মেম্বারের বাড়ি থেকে রাব্বানীর বাড়ির সামনে পর্যন্ত রাস্তাটি দিয়ে যানাবহন চলাল করতে পারত না। আমরা মাটি কেটে সড়কটি ১৪ ফুট প্রসস্থ করেছি। খুব সহজে দু’টি অটোরিকশা যাতায়াত করতে পারবে এবং দুর্ঘটনাও কম হবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ সবুজ  বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামো, রাস্তা, মাঠ-ঘাট, রাস্তা সংলগ্ন পুকুর পাড়ের উন্নয়ন ও খাল খনন প্রকল্পের মাধ্যমে শাহরাস্তি উপজেলায় ১ হাজার ৯৬ জন শ্রমিক প্রতিদিন ৪ শ’ টাকা মুজুরী হারে ৪০ দিন কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন। আমরা এসব কাজের নিয়মিত পরিদর্শন করছি।

চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা শাহনাজ  বলেন, আমাদের উপজেলার প্রকল্পগুলোর কাজ আমি নিজে, টেগ অফিসার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিয়মিত তদারকি করছি। কোন ধরণের অনিয়মের সংবাদ পেলে আমরা তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। ইতোমধ্যে এসব প্রকল্পের কয়েকটিতে অনিয়ম পাওয়ার কারণে ৪ সপ্তাহের বিল থেকে ১৮ লাখ টাকা কর্তন করা হয়েছে।

ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম