গরুর গোবরে পানি বিষাক্ত, মাছ চাষীর ৩ লাখ টাকার ক্ষতি!

হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর):  চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের বাকিলা ইউনিয়নের খলাপাড়া গ্রামে বেপারী বাড়ির পুকুরে চাষকৃত ৩ লাখ টাকার মাছ মাত্র ১১ হাজার বিক্রি করেছেন, ওই ইউনিয়নের মৎস্য চাষী সুমন গাজী। গত তিন দিনের বৃষ্টির ফলে ওই বাড়ির সফিকের গরুর খামারের গোবর পুকুরে পানিতে গিয়ে পড়ে। এতে পুকুরের পানি বিষাক্ত হয়ে মাছ মরতে শুরু করে। তাই বাধ্য হয়ে পুকুরের মাছগুলো বিক্রি করে দেন সুমন গাজী।
এর মধ্যে বেশিরভাগ মাছ মরে পচে যায় বলে জানান ক্ষতিগ্রস্ত সুমন গাজী। তিনি জানান, ৬ মাস পূর্বে বেপারী বাড়ির ৬০ শতাংশের পুকুরটি মাছ চাষের জন্য ৯০ হাজার টাকায় ২ বছরের ইজারা নেন, ওই এলাকার আব্দুল কাদের গাজীর ছেলে সুমন গাজী। সেই পুকুরে তিনি প্রায় দেড় লাখ টাকার রুই কাতল মৃগেলসহ দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা ছাড়েন। ইতিমধ্যে সেই পোনা মাছ প্রতিটি প্রায় ওজনে ৬/৭ শ গ্রাম হয়েছে।
এর মধ্যে সেই পুকুরের পাড়ে গরুর খামার করেন সেকান্দর বেপারীর ছেলে সফিক। গত কয়েক দিনে বৃষ্টির পানিতে সফিক গাজীর গরুর খামারের গোবর পুকুরে গিয়ে পড়ে। এতে পুকুরের পানি বিষাক্ত হয়ে যায়। ফলে পুকুরের মাছগুলো মরতে শুরু করে। পরে বুধবার রাতে কিছু মাছ ধরা গেছে। যা মাত্র ১১ হাজার টাকা বিক্রি করা হয়েছে। আর বাকি প্রায় ৮০ ভাগ মাছ মরে পুকুরে মজে গেছে বলে জানান সুমন গাজী।
এ সময় সুমন গাজী বলেন, সফিক মিয়াকে আমিসহ বাড়ির লোকজন বার বার অনুরোধ করেছি। তিনি যেন, পুকুরের পাড়ে গোবর রাখেন। কিন্তু তিনি কারো কথা শুনেন নি। যার ফলে আমার সর্বনাশ হয়ে গেছে।
সুমন গাজীর প্রতিবেশী মাঈনুদ্দিন মিয়াজী জানান, সুমনের মাছ ধরার জন্য সহযোগিতা করতে গিয়ে দেখি পুরো পানিতে গরুর গোবরের গন্ধ।
বেপারি বাড়ির বাসিন্দা ও বাকিলা ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম নজু জানান, যেহেতু একটি সমস্যা হয়ে গেছে, সেই হিসাবে সুমনকে সবাই মিলে সেক্টিফাইজ (সহযোগিতা) করা উচিত।

বাকিলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিলন জানান, মাছ চাষী সুমন গাজী ফোনে আমাকে তার তির বিষয়টি জানিয়েছে। সে অভিযোগ দিলে আমি উভয় পকে নিয়ে বসবো।

ফম/এমএমএ/

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম