চাঁদপুর: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, প্রার্থীদের ততটাই মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠছেন। গত নভেম্বর মাস থেকেই চাঁদপুরের ৫টি আসনের নির্বাচনী এলাকায় ভোটার ও সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছার চেষ্টা করছেন বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা। অন্য দলের সম্ভাব্য প্রার্থী থাকলেও তাদের গণসংযোগ চোখে পড়ার মত নয়। তবে বিএনপি থেকে ৫টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করা হলেও চাঁদপুর-২ ও চাঁদপুর-৪ আসন নিয়ে প্রকাশ্যে বিরোধীতা চলছে মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীদের সাথে।
চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে বিএনপি থেকে কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলেও মাঠে রয়েছে সাবেক প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি ঢাকায় থাকলেও এখন নিয়মিত কচুয়ায় যাতায়াত করছেন। একই আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মুহাদ্দিস আবু নছর আসরাফী নিজ এলাকায় থাকেন। যে কারণে তিনি নিজেই প্রতিদিন দাঁড়িপাল্লার পক্ষে জনসমর্থন বৃদ্ধি এবং তার বক্তব্য সাধারণ ভোটারদের আকৃষ্ট করছে। তিনি ফ্যাসিবাদ ও চাঁদাবাজ বিরোধী বক্তব্য দিয়ে রীতিমত ভাইরাল।
চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন বেশ কয়েকজন। এর মধ্যে ড. জালাল উদ্দিনকে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করা হলে শুরু হয় অন্য প্রার্থীদের প্রতিবাদ। তারা লাগাতার নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন। এর মধ্যে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানভীর হুদা ও ডাঃ শামীমের অনুসারীরা কোনভাবেই ড. জালালকে ছাড় দিতে রাজি নন। এই আসনে তারা মনোনীয় পরিবর্তন চান। বিএনপির এই দ্বন্দ্বের মধ্যে নীরবে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আব্দুল মোবিন। প্রবীণ এই নেতা ন্যায়, ইনসাফ ও কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের জন্য সাধারণ মানুষকে আহবান জানাচ্ছেন।
চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ব্যাপক গণসংযোগ করছেন। হাইমচর ও সদর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভোটারদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সমস্যার সমাধান করবেন এমন আশ্বাস দিয়ে তাকে নির্বাচিত করার আহবান জানাচ্ছেন। এই আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া। তিনিও সাধারণ ভোটারদের কাছে পরিচিত মুখ। তিনি সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান। যার ফলে ব্যাপক গণংসযোগ করে তিনি ভোটারদের পরিবর্তনের বাংলাদেশ গঠনে দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের গুরুত্ব তুলে ধরছেন। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী শেখ মো. জয়নাল আবেদিনও এই আসনে সক্রিয়।
চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রাপ্ত সাবেক এমপি মো. হারুনুর রশিদ এর প্রকাশ্যে বিরোধীতা করছেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এমএ হান্নান। তিনিও এই আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তারা অনুসারী নেতাকর্মীরা গত কয়েক সপ্তাহ মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবীতে সড়ক অবরোধ করে টানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন। তাদের দুজনের দ্বন্দ্বের মধ্যে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়াজী মাঠে পুরোপুরি সক্রিয়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার প্রত্যেক পাড়া মহল্লায় তার গণসংযোগ অব্যাহত। তিনি দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করছেন। পাশাপাশি ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের গুরুত্ব ও সুফল তুলে ধরছেন।
চাঁদপুর-৫ (শাহরাস্তি-হাজীগঞ্জ) আসনে বিএনপি থেকে মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী মমিনুল হক। তিনি সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় আসার পরে ব্যাক্তিগত কাজে ছিলেন দেশের বাহিরে। সম্প্রতি দেশে এসে গণসংযোগ শুরু করেছেন। এই আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বি সম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন বিএনপির আন্তজার্তিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন। তিনি এখন এলাকায় আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদ এর সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল হোসাইন মাঠে সক্রিয়। নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি নিয়মিত গনসংযোগ করতে দেখাগেছে।
এছাড়া এনসিপি থেকে ৫টি আসনের বেশ কয়েকজন দলের মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করলেও মাঠে তাদের উপস্থিতি নেই। সদর আসনে গণঅধিকার পরিষদ, গণফোরাম ও ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থীরা গণসংযোগ শুরু করেছেন।
চাঁদপুর জেলা জামায়াতের প্রচার সেক্রেটারী ও শহর জামায়াতের আমির অ্যাড. মো. শাহজাহান খান বলেন, জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের পরিবর্তন কিংবা অন্য ইসলামী দলের সাথে সমঝোতার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন নির্দেশনা আসেনি। সংগঠনের পক্ষ থেকে কোন সিদ্ধান্ত আসলে তা মেনে নিতে কোন দ্বিমত থাকবে না।
চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সলিম উল্লাহ সেলিম বলেন, জেলার ৫টি আসনে যাদের সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে, তারাই মূলত চূড়ান্ত প্রার্থী। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রার্থী পরিবর্তন করা কঠিন বিষয়। তারপরেও দলের উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন হতেও পারে। তবে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে দলের সকল নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ।
ফম/এমএমএ/

