
একবিংশ শতাব্দি বিশ্বের সবকিছুতেই তথ্য ও প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহারও বেড়েছে। প্রযুক্তির দৌড়ে ব্যাক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা যে দেশ পিছিয়ে পড়েছে, তারা বিশ্বের চলমান পরিস্থিতিতে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি। এর মধ্যে তথ্যের সাথে জড়িয়ে আছে গণমাধ্যম। দ্রুত সময়ের মধ্যে যে কোন সংবাদ প্রচার ও প্রকাশ করার ক্ষেত্রে ব্যবহার হচ্ছে আধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তি। এক্ষেত্রে যারা গণমাধ্যমে কাজ করেন তারাও পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই। তথ্য ও প্রযুক্তি গণমাধ্যমে ব্যবহারের বিষয়টি আমি নিজেই নানাভাবে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। কারণ আইটি ব্যবসায় জড়িত ছিলাম দুই যুগের অধিক সময়। আমার অভিজ্ঞতা দেশ-বিদেশ দুইস্থানে।
একটি বিষয় পরিস্কার করা দরকার। সেটা হচ্ছে-তথ্য ও প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহার এবং এর সহজ লভ্যতার দিক দিয়ে আমরা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে সবসময় ১০ থেকে ১৫ বছর পিছিয়ে থাকি। বিশেষ করে পাশবর্তী ভারতও আমাদের দিক থেকে অনেক এগিয়ে। আবার তথ্য ও প্রযুক্তি জ্ঞান রাখেন এমন জনশক্তি আমাদের দেশে অনেক আছে, তা অস্বীকার করা যাবে না। তবে এদের অনেকের মেধার বিকাশ ঘটে দেশের বাহিরে এবং তাদের মেধার সুফল পায় অন্য দেশ।
এবার মূল আলোচনায় আসি। আমার সাথে ২০০৩ সাল থেকে চাঁদপুরের গণমাধ্যমের বেশ কয়েকজনের সাথে সখ্যতা তৈরী হয়। আইটির লোক হিসেবে অনেকেই গণমাধ্যমের কাজের জন্য নানা সুবিধা নেয়ার সুযোগ পান। আমি নিজেও একটি পত্রিকায় লেখার সুযোগ পাই তখন থেকে। এরপর ২০০৬ সাল থেকে গণমাধ্যমের কয়েকজন আমার কাছে কাজ করতে এসে তাদের কাজের ধরণ বুঝানোর চেষ্টা করেন। তাদের কথায় বুঝতে পারি গণমাধ্যমে কাজ করতে হলে তথ্য ও প্রযুক্তি বুঝতে এবং এর ব্যবহার জানতে হবে।
২০০৯ সাল থেকে জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে কাজ করেন এমন বেশ কয়েকজন আমার কাছে এসে প্রযুক্তির ব্যবহার কীভাবে করা যায় এই বিষয়ে সহযোগিতা চান। তাদের সাথে আমার আন্তরিক সম্পর্ক থাকার কারণে তাদেরকে তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহার করার জন্য নানাভাবে সহযোগিতা করা হয়। এরপর থেকে চাঁদপুরের অনেক গণমাধ্যম ব্যাক্তি তাদের বাক্তিগত ই-মেইল ওপেন করাসহ কম্পিউটার ব্যবহার প্রশিক্ষণ নেন। আমি ব্যবসায়িক কাজে ব্যস্ত থাকায় বেশ কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিককে তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার শিখিয়ে কাজের উপযোগী করা হয়। এই ধারাবাহিকতা এখন পর্যন্ত অব্যাহত। সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন মনি করি না। তবে চলমান মোজো সাংবাদিকতার সময়; অনেক গণমাধ্যম কর্মী পিছিয়ে রয়েছেন।
২০১১ সাল থেকে আমি নিজেই একটি স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় সম্পাদনা শুরু করি। এরপর টানা ২০১৮ সাল পর্যন্ত দুটি স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় সম্পদনার সাথে জড়িত ছিলাম। এই সময়েও গনমাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার খুব কাছ থেকে উপলব্দি করেছি। মূলত আর্থিক সমস্যার কারণে আমরা প্রযুক্তির নানামূখী সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলাম। তারপরেও আমি নিজে ব্যাক্তিগত আয়ের অনেকাংশ ব্যয় করেছি প্রযুক্তি ব্যবহারে।
আমার এই বিষয়টি আলোচনার প্রয়োজন মনে করেছি এই কারণে, এখন থেকে যারাই গণমাধ্যমে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করবেন, তারা অবশ্যই একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি তথ্য এবং প্রযুক্তির যথেষ্ট জ্ঞান রাখতে হবে। আর না হয়ে দৌড়ে অনেক পিছিয়ে পড়তে হবে। এর ফলে চাঁদপুর গণমাধ্যমের জন্য উর্বর সে খেতাবের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে চাঁদপুরের গণমাধ্যমের যারা অভিভাবক হিসেবে রয়েছেন, তাদেরকে উদ্যোগ নিয়ে তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহারে গনমাধ্যমে জড়িত সকলকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে।
লেখক পরিচিতি : মুহাম্মদ মাসুদ আলম
সম্পাদক: ফোকাস মোহনা.কম। ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম। চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি, আজকের পত্রিকা ও দি ডেইলি ইভিনিং নিউজ। বিশেষ প্রতিনিধি-দৈনিক ঢাকার ডাক। প্রতিষ্ঠাতা: চাঁদপুরটিভি.কম। পূর্বের কর্মস্থল: চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি দৈনিক খোলা কাগজ, দৈনিক নয়া শতাব্দী, ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেল ‘কলকাতা টিভি’। স্থানীয় দৈনিক: দৈনিক আলোকিত চাঁদপুর পত্রিকার বার্তা সম্পাদক ও দৈনিক চাঁদপুরজমিন পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এবং জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘নাগরিক বার্তা’ এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী সম্পাদক।


