ক্ষিরাই নদী মতলব অংশের খনন কাজ পরিদর্শনে ইউএনও

ছবি: ফোকাস মোহনা.কম।

চাঁদপুর: চাঁদপুরের মতলব দক্ষিন উপজেলার নায়েরগাঁও উত্তর ইউনিয়নের কাচিয়াড়া এলাকায় ক্ষিরাই নদীর খনন কাজের পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেনু দাস।

বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে নদীর কচুয়া, মতলব ও কুমিল্লার দাউদকান্দি সীমান্তবর্তী এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন শেষে স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলেন ইউএনও।

পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেনু দাস ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও সার্ভেয়ারকে নিয়মানুসারে খনন কাজ করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। একই সাথে তিনি কঠোরভাবে হুশিয়ারি করেন কাজ করতে গিয়ে কোন কৃষকের যেন ফসলের ক্ষতি না হয়।

উপস্থিত এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নদী খননের পর যে মাটি উঠানো হয়, এগুলোর মালিক সরকার। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ ও মন্দিরসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যদি এই মাটির প্রয়োজন হয়, তাহলে আমাদের নিকট আবেদন করে বিনামূল্যে নিতে পারবে। কিন্তু কোন ব্যাক্তি যদি এই মাটি তার নিজের কাজের জন্য নিতে চান তাহলে রাজস্ব দিতে হবে। এর ব্যাতিক্রম করা যাবে না। ঠিকাদার কোনভাবেই এই মাটি বিক্রি করতে পারবে না। ঠিকাদার নিজের লাভের জন্য অতিরিক্ত মাটি উত্তোলন করে কৃষকের ফসলের ক্ষতি করতে পারবে না।

এরপূর্বে পরিদর্শনের সময় নদীর খনন এর বাস্তব অবস্থা ইউএনওকে স্কেল দিয়ে মেপে দেখান উপ-সহকারী প্রকৌশলী তন্ময় পাল। নদীর খনন এলাকায় বর্তমানে পানির গভীরতা ১২ফুট পাওয়া যায়। আর খনন ব্যতিত নদী অংশ পানির গভীরতা মাত্র ৩ থেকে ৪ ফুট।

এ সময় পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. ওয়াহিদুর রহমান ভুঁইয়া, খনন কাজের তদারকির দােিয়ত্ব থাকা মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্প চাঁদপুরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী তন্ময় পাল, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

জানাগেছে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ এর আওতায় সমগ্র বাংলাদেশে খাল, জলাশয় খননের প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এ খননের ফলে দেশের কৃষি ক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাবে। এসব পুন:খননের মাধ্যমে ছোট নদী ও খালে পানি ধারন ক্ষমতা বাড়বে। ইরিগেশনের সময় কৃষি জমিতে সেচ দেওয়া সহজ হবে। একই সাথে ভূ-গর্ভস্থ পানির পর্যাপ্ত ব্যবহারের পাশাপাশি বাস্তুসংস্থানের পুনঃজীবন সম্ভব হবে। এর ফলে পরিবেশের উপর একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এই প্রকল্পের আওতায় ২০২০-২০২১ এবং ২০২১-২০২২ অর্থ বছর দুইবারে কচুয়া উপজেলার সাচার বড় ব্রীজ সংলগ্ন এলাকা থেকে শুরু করে কচুয়া ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা জামতলা পর্যন্ত নদী খনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এতে আর্থিক বরাদ্দ ছিল ৬ কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) থেকে বাকী অংশে আবারও কাজ শুরু হয়েছে। নদীর এই অংশটি মতলব দক্ষিণ উপজেলায় আওতায় এবং কচুয়া, দাউদকান্দি উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা। মতলব অংশে খনন হবে ১১কিলোমিটার। এই কাজের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১০ কোটি টাকা।
ফম/এমএমএ/

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম