কুমিল্লায় শিশু শিমু হত্যা মামলায় দু’জনের ফাঁসি

কুমিল্লা: কুমিল্লায় শিশু শিমুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে দু’জনকে ফাঁসির আদেশ দেন কুমিল্লার আদালত।
মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) বেলা ১১টায় এ রায় ঘোষণা করেন কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন। যাহার নারী ও শিশুসম মামলা নং ২৬০/২০১৯ইং।
মামলার বিবরণে জানা যায়- ২০১৮ সালের ৫ মার্চ সকাল ১০:০০ ঘটিকার হতে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত যেকোন সময় কুমিল্লারর মনোহরগঞ্জ থানাধীন হাতিমারা গ্রামে বাদীর বসত ঘরের পশ্চিমের কক্ষে আসামী বাচ্চু মিয়া ও হামজা বাদীর বড় মেয়ে শারমিন আক্তারকে ধর্ষণের জন্য গিয়ে তাকে না পেয়ে ছোট মেয়ে শিমু আক্তার (১০) কে আক্রমণ করে। আসামি আমীর হাজমা ভিকটিম শিমু আক্তারকে ধর্ষণ করার পর ভিকটিম বলে যে তাঁর বাবাকে বলে দিবে। তখন আসামী বাচ্চু মিয়া ও হামজা ঘরে থাকা বটি দা ও কাঠের বাটযুক্ত দা দিয়ে ভিকটিম শিমু আক্তারকে কুপিয়ে ভিকটিমের নাকে, মুখে, তলপেটে, মাথার পিছনের দিকে, কপালে নীচে ডান চোখের কোনায়, ঠোটে, মুখে (যার ফলে দাঁতের মাড়িতেও কাটা জখম হয়), গলার বাম পাশে এবং যৌনাঙ্গেসহ ১৩টি কাটা রক্তাক্ত জখম করে পাশবিক কায়দায় ভিকটিমকে খুন করে। ঐ সময় ভিকটিমের বাবা মোঃ ছায়েদুল হক ঘটনার সময় অন্যের জমিতে ঔষধ ছিটাতে গিয়েছিলো এবং মা বেড়ানোর জন্য মৌলভীবাজার গিয়েছিলো। ভিকটিমের বাবা কাজ শেষে বাড়ী এসে শিমুর রক্তাক্ত নিথর দেহ দেখে চমকে উঠেন এবং কোলে করে উঠানে নেন।
এ ব্যাপারে ২০১৮ সালের ৫ মার্চ নিহত শিমু’র বাবা কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাতিমারা গ্রামের আঃ করিম এর ছেলে মোঃ ছায়েদুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামী করে ধর্ষণ করিয়া হত্যা করার অপরাধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সং/০৩) এর  ৯ (২) ধারার বিধানমতে মনোহরগঞ্জ থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ১১ নভেম্বর এজাহারে বর্ণিত ঘটনার তদন্ত করার জন্য ইন্সপেক্টর মাহাবুল কবির এর উপর দায়িত্বভার নেস্ত হইলে তদন্ত শেষে আসামিদ্বয়ের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইন ২০০০ (সং/০৩) এর ৯(২)(৩) ধারার বিধানমতে বিগত ১২/০২/২০১৯ইং তারিখ বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করিলে ০২/০৭/২০১৯ইং তারিখে বিজ্ঞ আাদালত চার্জ গঠন করেন।
এরপর বাদী, পাবলিক সাক্ষী,  ডাক্তার, তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটসহ ১৬জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে যুক্তিতর্ক শুনানী অন্তে আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯ (২) ধারায় দোষী মর্মে প্রতীয়মান হওয়ার অদ্য ০৮/১১/২০২২ তারিখে আাসামী বাচ্চু মিয়া ও হামজাকে মৃত্যুদণ্ড ও ১,০০,০০০/- টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন বিজ্ঞ ট্রাইব্যুনাল।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন- কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাতিমারা গ্রামের নিবাসী মৃত লাল মিয়ার ছেলে বাচ্চু মিয়া ও মৃত মোস্তফা ভূঁইয়ার ছেলে আমীর হামজা। প্রকাশ থাকে যে, আসামী বাচ্চু মিয়া ও আমীর হামজা’র মৃত্যু দণ্ডাদেশ মাননীয় হাইকোর্ট ডিভিশন কর্তৃক অনুমোদন সাপেক্ষে তাদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসির রুজ্জুতে ঝুলিয়ে তাদের মৃত্যু কার্যকর করার নির্দেশ দেন বিজ্ঞ ট্রাইব্যুনাল।
রাষ্ট্রপক্ষে বিজ্ঞ কৌশলী এড. প্রদীপ কুমার দত্ত এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন- এরফলে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে আমি মনে করি।
আসামী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন- এডভোকেট আয়েশা আক্তার ও এডভোকেট লুৎফুর রহমান।
ফম/এমএমএ/তাপস/

তাপস চন্দ্র সরকার | ফোকাস মোহনা.কম