চাঁদপুর: চাঁদপুর শহরের শত বছরের প্রাচীনতম ঐতিহাসিক চৌধুরী জামে মসজিদের পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ চলছে। এ কাজে সহায়তার জন্য চাঁদপুরবাসীর দৃস্টি আকর্ষন করছেন মসজিদ পরিচালনা কমিটির কর্তৃপক্ষ।
এ মসজিদটির পূর্ব ইতিহাস থেকে জানা যায়,স্বাধীনতার পূর্বে পাকিস্থান আমলে এ মসজিদটি নির্মান হলেও বড় ধরনের কোন সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ এ পর্যন্ত হয়নি।
মসজিদ কমিটি সূত্রে জানা গেছে,শুধু মাত্র আশি’র দশকের পরে ও ৯০’দশকের পূর্বে রাস্ট্র ক্ষমতায় হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন চাঁদপুরের কৃত্রি সন্তান প্রধান মন্ত্রী মিজানুর রহমান চৌধুরীর অনুরোধে তখন হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ চাঁদপুর সফরে আসলে। তিনি দুপুরে এ মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসেন।
তখন তিনি চৌধুরী জামে মসজিদে নামাজ আদায় করে মসজিদের সংস্কারের জন্য কিছু অনুদান ঘোষনা করেন। সে অনুদানের টাকায় তৎকালীন সময়ে মসজিদটির নীচের অংশে কিছু সংস্কার কাজ হয়েছিল। তখন মসজিদটি সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন,ডা: এম এ গফুর ও সাধারন সম্পাদক ছিলেন, কাপড় ব্যবসায়ী নবী স্টোরের মালিক ফারুকুল ইসলাম ফারুক।
বর্তমান সময়ের মসজিদ পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে রমজান মাসের পূর্বে থেকে ঐতিহ্যবাহী চৌধুরী জামে মসজিদের উন্নয়নে ব্যাপক সংস্কার ও উন্নয়ন কাজে হাত দিয়েছেন। এ মসজিদে প্রতিদিন শতশত ধর্মপ্রান মুসলমান নামাজ আদায় করে থাকে। অত্যান্ত সুন্দর ও সুশৃংখল ভাবে এ সমজিদটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। শহরের অন্যান্য সমজিদের চাইতে চৌধুরী জামে
মসজিদটির ভিতরে অনেক ঠান্ডা আবহাওয়া ও পরিবেশ। প্রচন্ড গরমের সময়েও মসজিদটির ভিতরে তুলনামূলক অত্যান্ত ঠান্ডা পরিবেশ বিরাজ করে থাকে। তাতে করে এ মসজিদে ধর্মপ্রান মুসলমানরা ৫ ওয়াক্ত পবিত্র নামাজ আদায় করে অত্যান্ত শান্তি উপভোগ করে থাকেন। এতে করে ধর্মপ্রান মুসলমানদের মধ্যে আলোচনায় শোনা যায় ও অনুভব হয় এসমজিদটি নির্মানে যে অর্থ ও জমি দান করা হয়েছে তা’অত্যন্ত হালাল উপার্যনের ছিল। যে কারনে এ মসজিদটি সত্যিকার অর্থে আল্লাহ্ তালার দরবারে কবুল হওয়ার মত নিদর্শন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
মসজিদ পরিচালনা কমিটি ও ধর্মপ্রান মুসলমানদের পক্ষ থেকে অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, এ রমজান মাসে দান করলে একে,সত্তর গুন ছোয়াব পাওয়া যাবে। তাই পবিত্র রমজান মাসে এ মসজিদের উন্নয়ন কাজে সকলে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে এগিয়ে আসা একান্ত প্রয়োজন। তাই সকলের উচিত এ মাসে উন্নয়ন কাজে দান করে একে সত্তর গুন ছোয়াব নেওয়া সুযোগটি গ্রহন করা যেতে পারে।
এ চৌধুরী জামে মসজিদের প্রবীন ধর্মপ্রান মুসল্লিদের সাথে আলাপ আলোচনায় জানা গেছে,স্বাধীনতার পর এ মসজিদে একজন জনৈক পেশ ইমাম ছিল,(নাম সংগ্রহ করা যায়নি) যিনি কার কিছু চুরি বা হারালে আয়না ও ডিম পড়ে দিলে তুলা রাশি লোকের মাধ্যমে তা’দেখার ব্যবস্থা করলে চোর তিনি(তুলা রাশি লোক) দেখতে পেতেন ও হারানো জিনিসের সন্ধান বলে দিতে পারতেন। যার কারনে এ মসজিদটি অনেক পূর্ব থেকেই ধর্মপ্রান মুসলমানের কাছে অনেক গরম ও গুরুত্বপূর্ন মসজিদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে আছে।
এ মসজিদটিতে শহরের কুমিল্লারোডস্থ ব্যবসায়ী,এলাকাবাসী,পালবাজারের ব্যবসায়ীরা,চৌধূরী ঘাটস্থ পৌর মার্কেট ব্যবসায়ী,ষ্ট্র্র্যোন্ড রোডস্থ ব্যবসায়ী,মহল্লাবাসী,৫নাম্বার ঘাট,প্রেসক্লাব রোডস্থ এলাকাবাসী,মেথা রোড,হাসপাতাল রোডসহ শহরের বিভিন্নস্থানের শতশত ধর্মপ্রান মুসলমানরা প্রতিদিন এ মসজিদটিতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে থাকে।
এ ছাড়া পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর পৌরসভা কর্তৃক পৌর ঈদ গাহ্ ে২টি ঈদের প্রধান জামাতের আয়োজন করে থাকে। এ আয়োজন কালে প্রাকৃতিক গোলযোগে ও আবহাওয়া খারাপ হলে, তাক্ষনিক ঈদের প্রধান জামাত ঈদগাহে নাহলে এ চৌধুরী জামে মসজিদে হয়ে থাকে। এখানে কয়েকটি জামাতের মাধ্যমে ধর্মপ্রান চাঁদপুরবাসী ঈদের প্রধান জামাত আদায় করে থাকে।
অপর দিকে জানা গেছে,কোন ব্যাক্তি কিছুর জন্য মানত করে এ মসজিদে দান করলে তার’ প্রমান মিলার নজির পাওয়া গেছে বলে অনেকের কাছ থেকে অভিমত পাওয়া গেছে।
আরো জানা গেছে,স্বাধীনতার পূর্বে পাকিস্থান আমলে ততকালীন সময়ে এ চৌধূরী জামে মসজিদটি নির্মানে জমি ওয়াককফ করে দান করেছেন সদর উপজেলার হরিপুর চৌধুরীবাড়ি তথা কুমিল্লা রোডস্থ চৌধুরী কলোনীর পূর্ব পুরুষরা।
ফম/এমএমএ/


