
চাঁদপুর : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আ ন ম এহছানুল হক মিলন শপথ নিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি এবার বিএনপি নেতৃত্বাধীন গঠিত মন্ত্রী পরিষদের পূর্ন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। এর আগে তিনি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ১১টায় সংসদ ভবনের শপথ গ্রহন কক্ষে তিনি বিএনপির সংসদ সদস্যদের সাথে এমপি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
পরে মন্ত্রী পরিষদের সাথে বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহন করেন। এ নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে ১লাখ ৩৩হাজার ৩২ ভোট পেয়ে আ ন ম এহছানুল হক মিলন ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে বিজয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী আবু নছর মোহাম্মদ মকবুল আহমেদ। তিনি পেয়েছেন ৭০হাজার ৩৬৮ ভোট।
আ ন ম এহসানুল হক মিলন বাংলাদেশের একজন রাজনীতিবিদ, লেখক এবং সংসদ সদস্য। তিনি ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন। এর আগে তিনি ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
জন্ম ও শিক্ষাজীবন : ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন ১৯৫৭ সালের ২৬ মার্চ চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলায় জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি শের ই বাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং গভ. ইন্টারমিডিয়েট টেকনিক্যাল কলেজ (বর্তমান সরকারী বিজ্ঞান কলেজ) থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন।
এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক সম্পন্ন করে ১৯৮২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে গমন করেন। তিনি নিউ ইয়র্ক ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ব্রুকলিন কলেজ এবং বোরো অফ ম্যানহাটন কমিউনিটি কলেজে সহকারী প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং কর্মজীবনে ঔষধ শিল্পে রসায়নবিদ হিসেবে কাজ করেন।
২০১৮ সালে তিনি মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার গবেষণাপত্রের মূল বিষয় ছিল বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ভূমিকা।
রাজনৈতিক জীবন: মিলন ১৯৯৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ-২৬০ চাঁদপুর-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। ২০০১ সালে ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। যাতে তিনি আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী প্রাক্তন মন্ত্রী মহিউদ্দীন খান আলমগীরকে পরাজিত করেন।
ফম/এমএমএ/


