উৎসবমুখর পরিবেশে চাঁদপুরে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন

চাঁদপুর আউটার স্টেডিয়ামে ঈদের জামায়াত শেষে মোনাজাত পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. নুরে আলম। ছবি: ফোকাস মোহনা.কম।

চাঁদপুর: পবিত্র মাহে রমজানের রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের ধারাবাহিকতা শেষে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছে ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা। অনেকটা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করে চাঁদপুরে অধিকাংশ স্থানে মসজিদ কেন্দ্রিক ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করতে হয়েছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে অধিকাংশ মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন মুসল্লীরা। জেলা সদরে সকাল সোয়া ৮টায় বেগম জামে মসজিদের ঈদের জামায়াতে অংশ নেন চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপি সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।

এই ঈদের জামায়াতে ইমামতি করেন মুফতী মাহবুবুর রহমান। নামাজ শেষে সংসদ সদস্য দলীয় নেতাকর্মী ও মুসল্লীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন।

এ সময় তিনি চাঁদপুরবাসীকে রমজানের শিক্ষা গ্রহনের মাধ্যমে ধর্মীয় অনুসশাসন মেনে চলার আহবান জানান। তিনি বলেন রমজান মাসের শিক্ষা গ্রহন করলে আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্থাৎ সফলতা অর্জন করতে পারবো।

এইদিন সকাল ৮টায় জেলা সদরের অন্যতম ঈদ জামায়াত অনুষ্ঠিত হয় শহরের আউটার স্টেডিয়ামে। এই জামায়াতে ইমামতি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের অধ্যাপক ড. নুরে আলম। তিনি কুরআন ও হাদিস মেনে জীবন পরিচালনার জন্য সকলকে আহবান জানান। পাশাপাশি সমাজের নানা কু-সংস্কৃতি থেকে দুরে থাকার বিষয়ে তার বক্তব্যে গুরুত্বসহ তুলে ধরেন।

ঈদের নামাজের জামায়াত পূর্বে বক্তব্য দেন আউটার স্টেডিয়াম ঈদ জামায়াতের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সেলিম আকবর। এছাড়াও এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম আলম। বৃষ্টির কারণে আউটার স্টেডিয়ামে ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়লেও আল্লাহর ইচ্ছায় কিছুটা সময় পেয়ে বহু মুসল্লী এই ঈদ জামায়াতে অংশগ্রহন করেন।

এছাড়া অধিকাংশ ঈদগা মাঠে আবহাওয়া অনুকুলে না থাকায় মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করতে হয়। জেলা সদরের প্রধান ঈদের জামায়াত পৌর ঈদগা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এবার জামায়াতে অনুষ্ঠিত হয়নি।

সকাল ৮টায় ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয় চাঁদপুর পুলিশ লাইসন্স জামে মসজিদে। সেখানে ঈদের নামাজ আদায় করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান।

শহরের বাণিজ্যিক এলাকা পুরান বাজার পুরান বাজার জামে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ইমামতি করেন মসজিদের খতিব ও ইমাম মুফতি ইব্রাহিম খলিল মাদানী।

অপরদিকে জেলার ঐতিহ্যবাহী হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক জামে মসজিদে ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ইমামতি করেন মসজিদের খতিব মুফতী আব্দুর রউফ। হাজার হাজার মুসল্লী এই মসজিদের ঈদ জামায়াতে অংশগ্রহন করেন। ঈদের জামায়াতে নামাজ আদায় ও খুৎবা শেষে ইমামগণ দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করেন।

এছাড়াও ঈদের জামায়াতে নামাজ আদায় ও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত লোকজন পরিবারের সাথে সময় কাটান। দীর্ঘদিন পর পরস্পরের দেখা-সাক্ষাত করার সুযোগ সুষ্টি হয়। মূলত মুসলমানদের মধ্যে ভাতৃত্ববোধ এবং ধনী গরিবের ব্যবধান কমে আসার অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি হয় এই ঈদ উৎসবের মাধ্যমে।
ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম