উন্নত দেশের অংশীদার হবে শিশু শিক্ষার্থী রাকিব

চাঁদপুর: মো. রাকিব। চাঁদপুর সদর উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের হানারচর ইউনিয়নের ১০৯নং হানারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্র। রোল নম্বর ৩৯। খুচ চটপটে স্বভাবের। প্রশ্ন করা মাত্রই একের পর এক উত্তর দিতে থাকলেন। সংকোচবোধ নেই বিন্দুমাত্র। প্রত্যন্ত গ্রামের এই শিশু শিক্ষার্থী পড়া-লেখার পাশাপাশি দৈনিক ৪ ঘন্টা পিতার চায়ের দোকানটি সামলান। এই বয়সে শিশুদের সময় পেলে খেলা-ধুলা করার কথা থাকলেও পিতার কাজে তার সময় দেয়াটা উন্নত দেশের অংশীদার হিসেবে উদাহরণ। যেমনটি চীন দেশে হয়। পরিবারের কোন লোকই অবসর থাকেন না। ৮০ বছর বয়স থেকে শিশুরাও ওই দেশে কাজ করেন।

বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) সকাল ১০টায় চান্দ্রা চৌরাস্তা মোড়ে গোশতের দোকানের পাশে চায়ের দোকানে সাক্ষাৎ হয় শিশু রাকিবের সাথে। তার পিতার নাম মো. দেলোয়ার গাজী।

রাকিবা জানান, সকালে ঘুম থেকে উঠে মক্তব্যে কোরআন পড়তে যান। তারপরেই চলে আসেন দোকানে। তার পিতা ভোরে এসে দোকান খুলেন। রাকিব আসার পরে পিতা বাড়িতে চলে যান। তিনি গোসল ও খাওয়া-দাওয়া করে পুনরায় দোকানে আসেন। সকাল ১১টা পর্যন্ত দোকানে থাকেন রাকিব। এই সময় দোকানে চা বানানো, পান বিক্রি করা ইত্যাদি সামলান রাকিব। খুব দ্রুত সব কাজ করতে শিখেছেন রাকিব।

রাকিব বলেন, দোকান থেকে গিয়ে গোসল করে ১২টার মধ্যেই স্কুলে চলে যাই। আমার ৩ বোন। আমি ছাড়া কোন ভাই নেই। তাই বাবার কাজে আমাকেই সহযোগিতা করতে হয়। এতে আমার কোন বিরক্তি লাগে না। বাকি সময় পড়া-লেখা আর সংসারের অন্য কাজ করে তার দিন কেটে যায়। বিদ্যালয় ছাড়া খেলা-ধুলা করার আর সময় নেই তার।

ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম