উজবেকিস্তানে সার কারখানা স্থাপনে উৎসাহ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

যৌথ উদ্যোগে উজবেকিস্তানে সার কারখানা স্থাপনে বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুক্রবার (২৯ জুলাই) বিকেলে সফররত উজবেকিস্তানের বিনিয়োগ ও বৈদেশিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপ-প্রধানমন্ত্রী Jamshid Abdurakhimovich Khodjaev সৌজন্য সাক্ষাতে গণভবনে এলে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।-খবর বাংলানিউজ২৪.কম।

পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

প্রধানমন্ত্রী উজবেকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশ উজবেকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয় জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৩ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক তাসখন্দ সফরের মধ্য দিয়ে দুদেশের সম্পর্কের ভিত্তি রচিত হয়েছিল। সেই সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও মজবুত হয়েছে।

বাংলাদেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং দেশে থাকা তরুণ ও উদ্যমী জনশক্তির কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুদেশের সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যদি একসঙ্গে কাজ করি তাহলে দুদেশের জন্য লাভজনক অনেকগুলো ক্ষেত্র খুঁজে বের করতে পারবো।

বৈঠকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা বিশ্বের সব দেশের জন্য সমস্যা তৈরি করছে, মানুষ ভুগছে। বাংলাদেশ সরকার এরইমধ্যে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে জোর দিয়েছি। আমাদের অভ্যন্তরীণ বাজার বিস্তৃত হচ্ছে। এ শিল্প হলে আমরা কৃষিপণ্য অন্য দেশে রপ্তানি করতে পারবো।

উজবেকিস্তানের বিনিয়োগ ও বৈদেশিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপ-প্রধানমন্ত্রী Jamshid Abdurakhimovich Khodjaev তার দেশের রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন।

শেখ হাসিনাও উজবেকিস্তানের রাষ্ট্রপতি Shavkat Mirziyoyev কে শুভেচ্ছা জানান এবং সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

উজবেকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী দুদেশের মধ্যকার দীর্ঘ বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বারোপ করেন।

অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কৃষি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্যের প্রশংসা করে তিনি।

বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে উজবেকিস্তানের আগ্রহের কথা জানান Jamshid।

ওষুধ ও আইসিটি ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপান্তর করতে চাই।

ঢাকায় উজবেকিস্তানের দূতাবাস প্রতিষ্ঠা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করার আশ্বাস দেন।

বৈঠকে দ্বৈত কর পরিহারের বিষয়ে একমত হয় দুই দেশ।

সৌজন্য সাক্ষাতের সময় উজবেকিস্তান প্রতিনিধিদলে ছিলেন উজবেকিস্তানের ফর ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ফরেন ট্রেড বিষয়ক ডেপুটি মিনিষ্টার laziz kudratov, সিভিল এভিয়েশন বিষয়ক ডেপুটি মিনিস্টার Jasurbek Chorieu।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, উজবেকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. জাহাঙ্গীর আলম।

ফম/এমএমএ/

ফোকাস মোহনা.কম