
চাঁদপুর: চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ইমামপুর পল্লী মঙ্গল উচ্চ বিদ্যালয়ে শপথ বাক্য পাঠ করাকে কেন্দ্র করে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মালিহা আক্তারকে নির্মমভাবে পেটানোর অভিযোগ বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক মোহাম্মদ শেখ সাদীর বিরুদ্ধে।
এই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) বিদ্যালয় চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সামান্য শপথ বাক্য পাঠ না করাকে কেন্দ্র করে আমাদের সহপাঠী মালিহা আক্তারকে বেধড়ক মারধর করেন শিক্ষক শেখ সাদী। মালিহার পরিবার অভিযোগ করেছে, এই ঘটনার ফলে শিক্ষার্থীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা খারাপ হয়েছে।
ঘটনার তিন দিন পার হলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ছাত্রীর অভিভাবকদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও প্রশাসনিক স্তরে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও সচেতন অভিভাবক মহল এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও বিদ্যালয়ে সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে দোষী শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মালিহা আক্তারের মা, যিনি নিজেও একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক তিনি বলেন, আমি একজন শিক্ষক হয়েও আজ নিজের মেয়ের জন্য বিচার চাইতে হচ্ছে, এটা আমার জীবনের সবচেয়ে কষ্টের মুহূর্ত। আমি কখনো ভাবিনি, একটি স্কুলে এমন নির্যাতনের শিকার হতে পারে একটি মেয়ে, তাও শুধু শপথ বাক্য না করা জন্য! শিক্ষক যদি এমন করেন, তাহলে শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা পাবে কোথায়? আমি কোনো প্রতিশোধ চাই না, শুধু চাই—এমন ঘটনার যেন আর পুনরাবৃত্তি না হয়। যারা দোষী, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা হোক। শিক্ষকতা পেশা পবিত্র, সেটিকে কলঙ্কিত করার অধিকার কারো নেই।
এ বিষয়ে শিক্ষক মোহাম্মদ শেখ সাদী জানান, শপথ বাক্য পাঠ করানোর জন্য আমি শিক্ষার্থী মালিহাকে বলি, সে অসম্মতি প্রকাশ করলে আমি তাকে শাসন করি।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিনা বেগমের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা বিষয়টি শুনেই সঙ্গে সঙ্গে খোঁজ নিতে শুরু করেছি। একজন শিক্ষক যদি শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে আঘাত করে থাকে, সেটি অবশ্যই তদন্তসাপেক্ষ এবং তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সব সময় বলি শিক্ষার্থীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে, কারণ তারা আমাদের ভবিষ্যৎ। এই বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে, এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফম/এমএমএ/


