
সরেজমিন কলেজে গিয়ে পরীক্ষার্থী, অভিযুক্ত ও বহিস্কৃত শিক্ষক এবং সভাপতির সাথে আলাপ করে এসব তথ্য জানাগেছে। শিক্ষাবোর্ডের নিয়মানুযায়ি ফরম পূরণে বিজ্ঞান বিভাগের নির্ধারিত ফি ২হাজার ৯৯৫টাকা, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ফি ২হাজার ৪৩৫টাকা।
কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুন নাহার রিপা জানান, তার কাছ থেকে ফরম পূরণে ৪হাজার এবং কোচিংয়ের জন্য ১হাজার ৫০টাকা নিয়েছে। একই বিভাগের আব্দুর রশিদ জানান, তার কাছ থেকে নেয়া হয়েছে ৬হাজার টাকা। কিন্তু তাকে কোন রশিদ দেয়া হয়নি।
বিজ্ঞান বিভাগের রাফি জানান, তার কাছ থেকে ফরম পূরণে নিয়েছে ৪হাজার ৫০০টাকা। ৪ মার্চ তার ক্লাসের জামিলের কাছ থেকে নিয়েছে ৩হাজার ৫০০টাকা।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছিলেন দেলোয়ার হোসেন। ৪ মার্চ থেকে তিনি এই দায়িত্বে নেই। যার ফলে কলেজের দায়িত্বে বরখাস্ত শিক্ষক মফিজুল ইসলাম ভুঁইয়া। যদিও সিনিয়র হিসেব শিক্ষক গৌরি রানি সাহা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছিলেন, কিন্তু তাকে নানা অজুহাতে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।
প্রভাবশালী ও বরখাস্ত শিক্ষক মফিজুল ইসলাম সম্পর্কে জানাগেছে, অসদাচরণের জন্য ২০১৫ সালে তাকে কলেজ কর্তৃপক্ষ বহিস্কার করেছেন। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ১৭ এপ্রিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় চিঠি দিয়ে নির্দেশনা দেন এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগের বিষয়টি নিস্পত্তি করার জন্য। কিন্তু এই শিক্ষক উল্টো কলেজ কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রীট করে রেখেছেন। দুটি বিষয় এখন পর্যন্ত সুরাহা হয়নি। কিন্তু মফিজুল ইসলাম ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর প্রভাব খাটিয়ে কলেজে এসে নানা অনিয়ম চালাচ্ছেন।
বরখাস্ত শিক্ষক মফিজুল ইসলামকে জিজ্ঞাসা করা হয় ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা কীভাবে নিচ্ছেন। জবাব দেয়ার পূর্বে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে খারাপ আচরণ করেন এবং পরবর্তীতে তিনি কিছুটা শান্ত হয়ে বলেন, কলেজের এমপিওভুক্ত ছাড়া শিক্ষকদের বেতন দেয়ার জন্য ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা নেয়া হচ্ছে। এভাবে নেয়ার নিয়ম নেই, সিদ্ধান্ত দিল কে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন সভাপতি অনুমতি দিয়েছে।
এই বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএওন) ও কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা আদায় করার বিষয়ে এই শিক্ষক আমার সাথে কোন ধরণের যোগাযোগ করেনি। তাকে আমি আমার দপ্তরে ডেকেছি। তদন্ত কমিটি করে দেয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এর আগের ইউএনও’র নাম করেও তারা অতিরিক্ত টাকা আদায় করেছে।
তিনি আরো বলেন, অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়ে গনমাধ্যমের বেশ কয়েকজন কলেজে গিয়েছে। তাদের সাথে খারাপ আচরণ করেছে শিক্ষক মফিজুল ইসলাম। বিষয়টি আমি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত কমিটি এই বিষয়টিও দেখবেন। গনমাধ্যম কর্মীদের সাথে খারাপ আচরণ দু:খজনক বিষয়।
বরখাস্ত শিক্ষক মফিজুল ইসলাম ভুঁইয়া ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হওয়ার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে সভাপতি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক সবকিছু হবে। এর বাইরে কোন কিছু হবে না।



