আমরা কচুয়ার উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবো: ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপি

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কচুয়া উপজেলা শাখার বর্ধিত সভা

চাঁদপুর: সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য, চাঁদপুর ১ আসনের সংসদ সদস্য, ড. মহীউদ্দিন খান আলমগীর এমপি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে বলেন, বঙ্গবন্ধুর সাথে কাজ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছিলো। বঙ্গবন্ধুর মত দেশকে মাতৃসেবার মত করে ভালোবাসতে হবে, এ প্রতিজ্ঞা প্রত্যেককে নিতে হবে।

সোমবার (০১ আগষ্ট) সকালে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর আরো বলেন, আমরা কচুয়ার উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবো। জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের নেতা। জননেত্রী শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করে যাবো। গণতান্ত্রিকভাবে আপনারা আপনাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন এ আশা আমার আছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রথম রবিবার ৪ তারিখ এ সম্মেলন সম্পন্ন করবো।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ ড. সেলিম মাহমুদ শোকের মাসে জাতির পিতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে বলেন, আপনারা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে আওয়ামী লীগের জন্যে কাজ করবেন। কারো কারো কথা সম্পূর্ন আওয়ামী বিরোধী কথা হয়েছে। তিন নেতা এক টেবিলে বসলে কথা ঠিক না। তারমানে আপনি তিন নেতার রাজনীতি করেন! আওয়ামী লীগের আতর্শকে ভুলবেন না। আওয়ামী লীগের আর্দশকে বিশ্বাস করবেন। যারা আওয়ামী লীগের শৃঙ্খলা নষ্ট করে তারা আওয়ামী লীগের শত্রু। সংগঠনের একটি নিজস্ব নিয়ম আছে। আওয়ামী শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। রাজনীতি রাজনীতির মত করতে হবে। আমরা রাজনীতি করি রাজনীতির নিয়মে। সবাই কিছু না কিছু ত্যাগ দিয়েছেন। অনেক বড় বড় নেতারা ত্যাগ দিয়েই উপরে এসেছেন। লক্ষ্য একটিই হওয়া উচিত আগামী নির্বাচনে এক হয়ে কাজ করা। জননেত্রী শেখ হাসিনা যতদিন বেঁচে আছেন ততদিন আমরা ক্ষমতায় থাকবো। ইনশাআল্লাহ আগামী নির্বাচনেও আমরা জয়ী হবো। বিএনপি অনেক ষড়যন্ত্র করেছিলো আমাদেরকে হারাবার কিন্তু কারা ব্যর্থ হয়েছে। ৭৫ এর ১৫ আহষ্টের মত ষড়যন্ত্র এদেশের মানৃষ আর সহ্য করবে না।
তিনি আরো বলেন, আমরা এখানে কোন পক্ষ নই। কারো জন্যে আওয়ামী লীগ অপেক্ষা করবে না। আওয়ামী লীগ তার নিজস্ব গতিতেই চলবে। ছোট ছোট বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করে কাউন্সিল বা সম্মেলন করা উচিত। তড়িঘড়ি করে কিছু করা ঠিক হবে না। আমরা সবাই আওয়ামী লীগের জন্যে আছি এবং থাকবো।

বর্ধিত সভার উদ্বোধন উদ্বোধনী বক্তব্যে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ শোকবাহ মাসের শুরুতে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, আপনারা যেহেতু নির্বাচন চান সেহেতু আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে কচুয়া উপজেলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।  যারা দলের শৃঙ্খলা নষ্ট করবে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আওয়ামী লীগ একটি সাংগঠনিক এবং সুশৃঙ্খল দল। সম্মেলন না করলে দল গতিশীল হয় না। আমরা সম্মেলন করবো আপনাদের আন্তরিকতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে। অনেক রক্তের বিনিমযে আমাদের এ স্বাধীনতা অতএব আমাতের স্বাধীনতার অপব্যবহার করবেন না।

প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখছেন চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল। তিনি বলেন,  আমরা দেখেছি ২০০১ সালে কে কি করেছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশ মোতাবেক কাজ হবে। ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। আমাদের মধ্যে প্রতিহিংসা কেন থাকবে। যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, সে সিদ্ধান্ত আমরা বাস্তবায়ন করবো। আপনার মন মর্জি মত হবে, সেই মনমানসিকতা পরিহার করুন। আপনাদের কথা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। আমার ভাইয়ের রক্ত কেন ঝড়াবো, আমার ভাইকে কেন অপমান করবো। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যে সিদ্ধান্ত নিবে সে সিদ্ধান্ত ভুল হবে না। সম্মেলনের মাধ্যমে আপনারা আপনাদের নেতা নির্বাচিত হবে। একটি সুন্দর ও সুষ্ঠ সম্মেলন হবে তা চাঁদপুরের জন্যে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে দাড়াবে। আগামী নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকাকে বিজয়ী করবো।

কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুব আলী পাটওয়ারী’র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন চৌধুরী সোহাগের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু নাছের বাচ্চু পাটোয়ার, শাহবাগ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি জি এম আতিক, কচুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি আমির হোসেন, কামরুল নাহার ভূইয়া, যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, দুলাল প্রধান, শাহজাহান হোসেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশির, পৌর মেয়র ও যুবলীগ সভাপতি নাজমুল আলম স্বপন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান হাতেম, সৈয়দ বাহার, বতেন সরকার, কচুয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাহাবুবুল আলম, সুলতানা খান, কচুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য প্রানাধন কবিরাজ, ফনি হোসেন মজুমদার, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক খোরশেদ আলম খোকন, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ফখরুল ইসলাম কালু, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হাজী শাহীন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য মমিন সরদার, হুমায়ুন কবির, ১২ নং আশ্রাফুল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক আবু ইউসুফ, ১১ নং গোহট দক্ষিণ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সেলিম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন, ১০ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন, ১০ নং গোহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি তাজুল ইসলাম, কড়ইয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি আব্দুস সালাম সওদাগর, কাদলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফখরুল ইসলাম, ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি লিটন মুন্সি, ৬ নং উত্তর কচুয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি কাজী জহিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন, ৫ নং সহেদেবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন সুমন, ৪ নং পালাখাল মডেল ইউনিয়ন সভাপতি আহাদ গাজী, সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক, ৩ নং বিতারা ইউনিয়ন সভাপতি কবির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সোহাগ খান, ২ নং পাথই ইউনিয়ন সভাপতি সাধারণ সম্পাদক, ১ নং সাচার ইউনিয়ন সভাপতি মিন্নত আলী তালুকদার প্রমুখ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুর রশিদ সরদার মনজুর আলম মঞ্জু, যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট জহিরুল ইসলাম, তথ্য সম্পাদক শাহ আলম মিয়া, মোতালেব, সদস্য এডভোকেট বদিউজ্জামান কিরণ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মহসিন, গীতা পাঠ করেন ফণি ভূষণ মজুমদার ।

ফম/এসএস পলাশ/এমএমএ/

শাহরিয়া পলাশ | ফোকাস মোহনা.কম