আজ চাঁদপুরের অর্ধশত গ্রামে ঈদুল আজহা

ফাইল ছবি।

চাঁদপুর: আজ শনিবার চাঁদপুর জেলার অর্ধশত’ গ্রামে ঈদুল আজহা পালিত হবে। দেশের চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল না হয়ে আরব বিশ্বের সাথে সঙ্গতি রেখে হাজীগঞ্জের বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের সাদ্রার হামিদিয়া ফাযিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মরহুম মাওলানা আবু ইছহাক ইংরেজি ১৯২৮ সাল থেকে এ প্রথার প্রচলন শুরু করেন। সাদ্রা থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সাদ্রা দরবার শরীফের অনুসারীরা এ প্রথা চালু করায় জেলার নানা গ্রামে এখন সাদ্রা দরবারের নিয়মে আগাম ঈদ পালিত হচ্ছে।

আজ শনিবার (৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টায় জামাত হবে সাদ্রা দরবার শরীফ মাঠে। সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা মাঠে ঈদ জামাত হবে সকাল ৯ টায়। সাদ্রা গ্রামে সাদ্রা দরবার শরীফে ঈদের জামায়াতে ইমামতি করবেন আল্লামা জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানী।

সাদ্রা দরবার শরিফের অনুসারীরা প্রায় ৯২ বছর ধরেই আরব দেশগুলোর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সাদ্রাসহ পাশের ৫০টি গ্রামের বিভিন্ন স্থানে ঈদ উদযাপন করে থাকেন। ঈদকে ঘিরে এসব গ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে

সাদ্রা ছাড়াও আজ ঈদ উদযাপন করা চাঁদপুরের গ্রামগুলো হলো- হাজীগঞ্জের হুরুমচাইল, অলীপুর, বেলচোঁ, জাকনি, বাসারা,কাঁসারা, হোটনী, বেলচোঁ, মুন্সীরহাট, উচ্চঙ্গা, দক্ষিণ বলাখাল, প্রতাপপুর,রামচন্দ্রপুর, মেনাপুর, শাচনমেঘ, খিলা, উভারামপুর, পাইকপাড়া, বিঘা, উটতলী, বালিথুবা, শোল্লা, রূপসা, গোয়ালভাওর, কড়ইতলী, নয়ারহাট, মতলবের মহনপুর, এখলাসপুর, দশানী, নায়েরগাঁও, বেলতলীসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম।

এছাড়া চাঁদপুরের পাশের জেলা নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, শরীয়তপুর, মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, দিনাজপুর,জেলার কয়েকটি স্থানে মাওলানা ইছহাক খানের অনুসারীরা আজ ঈদ উদযাপন করবেন। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ইসলামের সব ধর্মীয় রীতিনীতি প্রচলন শুরু করেন। মাওলানা ইছহাকের মৃত্যুর পর থেকে তার ছয় ছেলে এ মতবাদে চালিয়ে আসেন। এর মধ্যে পীরের বড় ছেলে আবু যোফার মোহাম্মদ আব্দুল হাইয়ের মৃত্যুর পর এখন তার ছেলে আরিফও এ মতবাদ চালাচ্ছেন।

সাদ্রা দরবারের বড় পীরজাদা পীর ড. মুফতি বাকী বিল্লাহ মিসকাত চৌধুরী বলেন, হানাফি, মালেকি ও হাম্বলি এ তিন মাজহাবের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হচ্ছে- পৃথিবীর পশ্চিম প্রান্তেও যদি চাঁদ দেখা যায় আর সে সংবাদ যদি নির্ভরযোগ্য মাধ্যমে পৃথিবীর পূর্ব প্রান্তেও পৌঁছায় তাহলে পূর্ব প্রান্তের মুসলমানদের জন্য রোজা রাখা ফরজ এবং ঈদ করা ওয়াজিব। একইভাবে কোরবানী ঈদকে উদযাপনের জন্য পৃথিবীর যেকান স্থান থেকে চাঁদ গেলেই হলো। তা ছাড়া হজ্বের একটি বিষয় তো পরিস্কার আছেই।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ জোবায়ের সৈয়দ বলেন, ঈদের জামাতসহ সকল নিরাপওায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। হাজীগঞ্জে এদিন নয়টি ঈদের জামাত হবে বলে তিনি জানান।

ফম/এমএমএ/

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | ফোকাস মোহনা.কম