অসম ভালবাসার সমাপ্তী আত্মহত্যায়

সজীব খান ।।  আবেগ আর বাস্তব এক নয়, এটাই সত্য, এটাই বাস্তব। আবেগের মোহে পড়ে, ভুলটাকে শুধরে, বাস্তবের সাথে মোকাবেলা করে বাঁচাই জীবন। সে বাঁচায় তখন থাকে স্বার্থকতা। একটা ভুল সিদ্ধান্ত, জীবনের অনেক কিছু বদলে দেয়, বদলে দেয় জীবনের গতিপথ। স্রোতের বিপরীতে সাঁতরাতে গিয়ে তেমন সফলতা আসেনি কারো জীবনে। আসলেও তখন কষ্ট করতে হয় সীমাহীন। ভালবাসার সফলতা আর এভারেস্ট জয়করা কোনটাই কম নয়। সে ভালবাসার যখন সমাপ্ত হয় একটা ভুল সিদ্ধানে সমাজিক ভাবে হতে হয় হয়প্রতিপন্ন। জীবনের সাথে যুদ্ধ করে সফলতা আনতে পারলেই প্রশংসা আর শুভানুধায়ীর শেষ নেই। হায়রে জীবন।
বলছি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সেই প্রেমীক যুগল কলেজ শিক্ষিকা খাইরুন নাহার আর কলেজ ছাত্র মামুনের কথা। বিয়ের আটমাস পেরুতে না পেরুতেই শিক্ষিকা নাহার চলে গেলেন না ফেরার দেশে। অপ্রত্যাশিত মৃত্যু সমাপ্ত করলো তাদের অসম প্রেম কাহিনী। পারিবারিক, আত্মীয় স্বজন, সহকরীদের নিয়মিত মানুষিক চাপে আত্মহত্যা করেছে বলেছে বলে স্বামী মামুনের দাবি।
গত ১২ ডিসেম্বর কাজী অফিসে গিয়ে কলেজ ছাত্র মামুন, কলেজ শিক্ষিকা খায়রুন নাহার গোপনে বিয়ে করেন। এক বছর আগে ফেজবুকে শিক্ষিকা নাহারের সাথে একই উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের পাটপাড়া গ্রামের কলেজ ছাত্র মামুনের পরিচয় হয়। তারপর প্রেম, প্রেম গভীর থেকে গভীরতায় গেলে দুজনের সিদ্ধান্তে বিয়ে করেন তারা।
এরপর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ, প্রিন্ট ও ইলেকট্র্রিক মিডিয়ায় প্রচার হয়। সেখানে তারা দুজন হাসি খুশি বক্তব্য দিয়ে বেশ সাড়া জাগান। মামুনের পরিবারের কোন প্রকার আপাত্তি না থাকায় নাহার মামুন ভাড়া বাসায় সংসার শুরু করেন । জীবনের শেষ দিন পর্র্যন্ত একত্রে থাকার প্রতিশ্রুতবদ্ধ হয়ে দেশবাসীর কাছে দোয়া চান, হাসিখুশি ভাবে ঝড়ানো ছবি গুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন। মামুনকে ঝড়িয়ে শিক্ষিকা নাহার ছবি তুলেন, দুজনের ভালবাসার নিদারুন গল্প অনেকের দৃষ্টি কাড়েন।
সমাজ কখনো ভাল দিকের বিষয়ে সমালোচনা করেন। শিক্ষিকার অসবিয়ে নিয়ে সামাজিক ভাবে মানুষ যেখানে স্বাভাবিক ভাবে উৎসাহ দিয়ে তাদের অনুুপ্রেরনা দিবে, সেখানে তিরস্কার যদি আসে। তাহলে কে বাঁচতে চাইবে। সবাই তখন মানুুষিক ভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়বে।
প্রেম আসে স্বর্র্গ থেকে, সে হোক না, অসম বয়েসে, এতো দোষের কিছু নয়। ফুল ফুটক আর নাই ফুটক, বসন্ততো আসবেই। ভালবাসা যখন আসে, তখন বয়সের মাপকাটি হয়না। কখন কার চোখে কাকে ভাল লাগবে, বিদাতাই জানে। অসম এ ভালবাসাকে স্বাগত জানিয়ে তাদের বাঁচার উৎসাহ দেওয়া এখন আর সেই যুগ নেই। সমাজের রীতিনীতি সব বদলে দিয়েছে।ৃ
একটা জীবনের সমাপ্ত, এটা কারোই কাম্য নয়, মনে মনে মিল হলেই হয় প্রেম, আর সে প্রেম জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত থাকায় শ্রেয়ও, এটাই আমাদের কাম্য।
মানুষকে বাঁচে কর্মে, আর কর্মকেই বড় করে বাঁচায় উত্তম। সমাজ কাউকে খাওয়া না পড়ায়, আমি সমাজের মানুষের নীতি কথায় বিশ্বাসীনা, একদিন না খেয়ে থাকলে পাশের ঘরের কেউই খবর নেয় না, আর সমাজ?

এখন আর সেই যুুগ নেই, ভালবেসে বিয়ে করা, এখন ভালবাসার প্রতি কারোই বিশ্বাস নেই। প্রত্যারনা আর ছলনাই হচ্ছে এখন ভালবাসা। এক ছেলে এক মেয়ে কত জনের সাথে মন দেওয়া নেওয়া করে, তুমিই আমার প্রথম প্রেম, তুমিই আমার ভালবাসা। কত কথা বলে মন দেওয়া নেওয় হয়। কয়েক দিন যেতে না যেতেই ভালবাসার বিচ্ছেদ, এরকম ঘটনাই চলছে সমাজ ব্যবস্থায়।

ভালবাসার এ কঠিন সময়ে শিক্ষিকা আর কলেজ ছাত্রের ভালবাসার ফুলফুটে সংসার, এটাই প্রেমে, এটাইন সত্য। একটা মানুষের একটাই জীবন, চলে গেলে ফিরে পাওয়া যায়না। যার যা সে বুঝে। সমাজ বুঝতে চায়না। সমাজ শুধু সমালোচনা নিয়েই থাকে ব্যাস্ত। শিক্ষিকা আর কলেজ ছাত্রের অসম ভালবাসা থেকে আমাদের শিক্ষা নিয়ে সমাজ ব্যবস্থার পরির্তন হোক এটাই প্রত্যাশা। ওপারে ভাল থাকবেন।

লেখক: সাংবাদিক ও কবি।

ফোকাস মোহনা.কম