অবশষেে আপন ঠিকানা পেল বাক প্রতিবন্ধি সত্যেন্দ্র চন্দ্র দে

চৌগাছা (যশোর): চৌগাছা পৌর মেয়রের সহযোগীতায় আপন ঠিকানা খুজে পেল বাক প্রতিবন্ধি সত্যেন্দ্র চন্দ্র দে (৬২)।

বৃহস্পতিবার (২১নভম্বের) সকালে তিনি যশোর থেকে নিজ ঠিকানা ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইলের উদ্যোশে রওনা দেয় বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, গত এক সপ্তাহ ধরে চৌগাছা পৌর সদরে বয়োবৃদ্ধ এক বাক প্রতিবন্ধি ঘুরা ফেরা করতে থাকে। তিনি বিভিন্ন মানুষের নিকট থেকে চেয়ে খাওয়া ও রাতে দোকান ঘরের সামনে ঘুমাতে থাকে। বিষয়টি পৌর মেয়র নুর উদ্দিন আল মামুন হিমেলের নজরে এলে তিনি ওই বাক প্রতিবন্ধিকে গত দুই দিন আগে পৌরসভায় নিয়ে যান। পৌরসভার একটি কক্ষে তাকে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি বাক প্রতিবন্ধির ঠিকানা খুজতে থাকেন।

একপর্যায় বৃহস্পতিবার সকালে পৌর মেয়র তার নিজ গাড়িতে করে বাকপ্রতিবন্ধিকে যশোর শহরে নিয়ে যান। যশোরে পুলিশ ব্যুারো ইনভেষ্টিগেশনে (পিবিআই) এর সহযোগীতায় তার হাতের ছাপ নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র বের করেন। সেখানে দেখা যায়, বাক প্রতিবন্ধি ব্যক্তির নাম সত্যেন্দ্র চন্দ্র দে, পিতা মৃত ললিনী মহন দে, মাতা শেফালী রানী দে, গ্রাম-ধানমহাল, নান্দাইল পৌরসভা, ময়মনসিংহ। এরপর ওই পরিচয় পত্রের সূত্র ধরে তার ছেলে এবং পরিবারের জাতীয় পরিচয় পত্রও সংগ্রহ করা হয়। একপর্যায় বাক প্রতিবন্ধি সত্যেন্দ্র চন্দ্র দে’র পরিবারের সদস্যদের সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও কলে কথা হয়। তখন উভয়ই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, প্রায় ১ মাস আগে থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন, নান্দাইল থানায় একটি জিডিও করেন। পরবর্তীতে মেয়র নুর উদ্দিন আল মানুন হিমেল বাক প্রতিবন্ধি সত্যেন্দ্র চন্দ্র দে’কে যবিপ্রবিতে নিয়ে আসেন। ময়মনসিংহ জেলা থেকে ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা একটি বাস রিজার্ভ করে যবিপ্রবি’তে ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসে। ওই রিজার্ভ বাসে বাক প্রতিবন্ধিকে তুলে দেয়া হয় বলে জানা গেছে।

পৌর মেয়র নুর উদ্দিন আল মামুন হিমেল জানান, বাক প্রতিবন্ধি সত্যেন্দ্র চন্দ্র দে চৌগাছাতে ঘুরাফেরা করতে দেখে আমি তাকে পৌরসভায় থাকার ব্যবস্থা করি। পরিবর্তীতে তার ইশারা ইঙ্গিতে বুঝতে পারি সে দেশের কোন এক প্রান্তের মানুষ। তাই বৃহস্পতিবার যশোর পিবিআই’তে নিয়ে তার ঠিকান খুজে পাই এবং নিজ ঠিকানায় পাঠানোর ব্যবস্থা করি।

ফম/এমএমএ/

আব্দুল আলীম | ফোকাস মোহনা.কম