অনুভব : পরপর দুদিন ব্যাচ ‘ ৯৪ এর দুই বন্ধুর জীবনাবসান!

।। শাহাদাত হোসেন শান্ত।।  পরপর দুই দিন এসএসসি ব্যাচ ‘ ৯৪ এর দুই বন্ধুর জীবনাবসান (মৃত্যু) হয়েছে।
২২ অক্টোবর দেওভোগ বাংলাবাজার পূর্ব আমবাগান নিবাসী মরহুম আব্দুর রশীদ সাহেবের বড় ছেলে দেওভোগ হাজী উজির আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ৯৪ ব্যাচের বন্ধু মোজাম্মেল হক মামুন না ফেরার দেশে চলে গেছে।
২৩ অক্টোবর হাটহাজারীর ৯৪ ব্যাচের বন্ধু মোহাম্মদ রহিম মৃত্যু বরণ করেছে। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন) আমি দুই বন্ধুর রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। আল্লাহ যেন তাদের সকল গুনাহ মাফ করে জান্নাত নসিব করেন। আমিন।
গড় আয়ু বিবেচনায় নিজেকে যখন তখন মৃত্যুর পথ যাত্রী মনে হয়নি এখনো। কিন্তু একই বয়সের বন্ধু সারথিদের পর্যায়ক্রমিক মৃত্যু সংবাদ নিজেকেও খুবই ভাবিয়েছে এবং শিল্পী এন্ড্রু কিশোরের গানের মতোই উপলব্ধিতে উঁকি  দিয়েছে —
“ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে
রইবো না আর বেশি দিন তোদের মাঝারে। “
মানুষের বেঁচে থাকার ইচ্ছা আর মৃত্যুর দুঃখ তাঁর সমানুপাত। কারণ মানুষ জীবনকালে নানান দুঃখজরায় আক্রান্ত হয় এবং চোখের জলে নিমজ্জিত হয় শ্রাবণ বারিধারার মতো। এই জাগতিক দুঃখ সেদিনেই থামবে, যেদিন মানুষের জীবনবীণা থেমে যাবে। কবি সৈয়দ শামসুল হক এজন্যই হয়তো লিখেছেন —
‘ হায়রে মানুষ, রঙ্গীন ফানুস দম ফুরাইলেই ঠুস! তবুতো ভাই কারোরই নাই একটুখানি হুশ——–‘
সুরকাল আলম খানের দেওয়া সুরে কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোরের গলায় এ গান এক সময়ে মানুষের মুখে মুখে ফিরেছে। গানের মরমী বার্তা মানুষকে ভাবিয়েছে এবং  কাঁদিয়েছে।
আমার কাছে মৃত্যু কেবল অরূপরতনের আধার এক মহাসমুদ্রে ডুব দেওয়া। সসীম জগৎ থেকে অসীমে প্রবেশ। কিন্তু মৃত্যু আসার আগে সবাই মৃত্যু থেকেই পালিয়ে বেড়ায়। রবীন্দ্রনাথ সেজন্যই বলেছেন —
“হেথায় হোথায় পাগলের প্রায়
ঘুরিয়া ঘুরিয়া মাতিয়া বেড়ায় ”
এই যে মৃত্যু ভয় এই জীবনবীণার মৃত্যু ভয়  পরিপূর্ণ হয় মানুষের জীবন বিয়োগে।
“যে যায় সে চলে যায়
যারা আছে তারাই জানে
দু’হাতের উল্টো পিঠে কান্না মুছে হাসি আনতে হয়।”
কবি মনীন্দ্র রায় এঁর এই অনুভূতি থেকেই হয়তোবা আমরাও বন্ধু স্বজনে মৃত্যুর পর দু’হাতের উল্টো পিঠে কান্না মুছে আবার অসীম আনন্দধ্বনিতে মেতে উঠি।
আলোর অপর দিকেই যেমন থাকে অন্ধকার, তেমনই মানুষের জীবনও দ্বিমুখী স্রোতেই বয়ে চলেছে।  জীবনবীণাতেও দুই তার, এক তারে বাজে জীবনসঙ্গীত তেমনই অন্য তারে মৃত্যুধ্বণি হাহাকার করে চলে। সুখ-দুঃখ হাসি-কান্না পরস্পর বিপরীত এই দ্বৈত ধ্বণিগুলোই জীবনকে বেয়ে নিয়ে যায়। তাই তো রবীন্দ্রনাথ অনায়াসে বলেছেন—
‘ নাচে জন্ম, নাচে মৃত্যু পাছে পাছে
তাতা থৈ থৈ, তাতা থৈ থৈ, তাতা থৈ থৈ—‘
ধন্যবাদ বন্ধু তোদের। সুখ দুঃখের সারথী হওয়ার তোদের এই প্লাটফর্মে সম্পৃক্ত করার জন্য। এভাবে কখনো অশ্রুসিক্ত কখনো উল্লসিত হওয়ার মধ্যে দিয়ে একদিন আমারও যাওয়ার সময় হবে; এবং নিব বিদায়।
শাহাদাত হোসেন শান্ত, এসএসসি ‘৯৪, চাঁদপুর। 
২৬ অক্টোবর ২০২২ 

ফোকাস মোহনা.কম