অচিনবৃক্ষ থেকে ফিরে (কবিতা)

—যুবক অনার্য

বহুদিন পর আজ এই অচিন বৃক্ষের নিচে
আমি আর সনাতন
সার্ধশতবর্ষের পুরনো এ বৃক্ষ যেনো কালের সাক্ষী এক দাঁড়িয়ে আছে অবিচল
হে বৃক্ষ তুমি তবে দেখেছিলে ১৯৫২
দেখেছিলে ১৯৭১
দেখেছিলে রায়ট- হিন্দু মুসলমান-করুণতম ইতিহাস
দেখেছিলে ১৯৯০
এবং সর্বসাম্প্রতিক কী দেখছো তুমি?
দেখছো – মানুষেরা আজও রয়ে গেছে সাম্প্রদায়িক
রয়ে গেছে মধ্যযুগীয়
মানুষেরা আজও সীমাবদ্ধ ‘একটি তুলসী গাছের
কাহিনী’র মতো
মানুষেরা আজও মজিদের মতো করছে ব্ল্যাকমেইল –
‘অই মিয়া,দাড়ি রাখসো’!
হে বৃক্ষ, সর্বশেষ তবে কী?
একদিন তোমারও ঘটবে মহাপ্রয়াণ
থাকবে না তুমি এরকম দাঁড়িয়ে অবিচল-

এসব কিছুই ভাবছিলাম আমি আর সনাতন
বৃক্ষের নিচে একটি মূর্তি ছিলো
এখন তা নেই
পাশে মসজিদ ঘরটি তখনও হয় নি নির্মিত
অচিন বৃক্ষের কিছু অংশ মরে গেছে কিংবা
মেরে ফেলা হয়েছে যেরকম মানুষেরা মেরে ফেলে
অন্য মানুষ!

অচিন বৃক্ষের কাছে বিদায় নিয়ে ফিরে আসছিলাম
পেছন থেকে বৃক্ষ আমাদের ডাক দিলো
নাম ধরে,
আমরা থেমে গেলাম।
বৃক্ষ বোলছে আমাদের স্বাবলীল ভঙিমায়-:
‘ আমার এখানে এসে যা যা ভেবেছো
বেঁচে থাকতে চাইলে সবকিছু ভুলে যাও’।
আমরা বোল্লাম:এমন কিছুই কি ভেবেছি
যা ভেবে নেয়া অপরাধ!
‘তোমাদের কাছে যা সুন্দর
অন্যের কাছে তা হয়তো বা কুৎসিত’।

আমরা বৃক্ষকে আশ্বস্ত করে ফিরে এলাম
সনাতন কবি, তাই সে পারলো না লুকিয়ে রাখতে
সেই ভাবনাগুলি যা আমরা ভেবেছিলাম
অচিন বৃক্ষের নিচে!
কবিতায় সনাতন সকল ভাবনাই
প্রকাশ করে দিয়েছিলো।
আর আততায়ীগণও হয়ে উঠেছিলো রক্তপিপাসু
সনাতন বেঁচে রইলো না পৃথিবীতে আর।

আততায়ীগণ জানবে না কোনোদিন- ভাবনাগুলিকে বাঁচিয়ে রাখবার উদ্দেশেই
সনাতন ম’রে যেতে প্রস্তুত হয়েছিলো।
সনাতনকে মেরে ফেলবার অস্ত্র থাকলেও
ভাবিনাগুলি মেরে ফেলবার কোনো অস্ত্র
পৃথিবীর কোথাও নেই!

ফোকাস মোহনা.কম